‘হিন্দু ইভিএম বিজেপির, মুসলিম ইভিএম তৃণমূলের’— শুভেন্দুর বিস্ফোরক বিশ্লেষণে তপ্ত রাজনীতি

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনা যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। সোমবার সকাল ১০টা ৩৯ মিনিটের আপডেটে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তাঁর মতে, এবারের নির্বাচনে মেরুকরণ অত্যন্ত স্পষ্ট এবং ইভিএম-এর ফলে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। শুভেন্দুর ভাষায়, “আমি যেটা প্রাথমিকভাবে অ্যানালিসিস করেছি, তাতে হিন্দু ইভিএম বিজেপির আর মুসলিম ইভিএম তৃণমূলের। তবে আগের মতো (একতরফা) আর নেই।”
শুভেন্দুর বিশ্লেষণ ও আত্মবিশ্বাস
শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন যে, পোস্টাল ব্যালট এবং প্রাথমিক রাউন্ডের গণনা শেষে বিজেপি ১৩৫টিরও বেশি আসনে এগিয়ে রয়েছে। তাঁর বিশ্বাস, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ব্যবধান আরও স্পষ্ট হবে এবং বিজেপিই বাংলায় সরকার গড়বে। তবে কর্মীদের সংযত থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “বাংলা শান্তি চায়। কেউ কোনো হিংসায় জড়াবেন না। কুকুর মানুষের পায়ে কামড়ায়, কিন্তু মানুষ কুকুরের পায়ে কামড়ায় না।” অর্থাৎ, তৃণমূলের উস্কানিতে পা না দেওয়ার জন্য দলীয় সমর্থকদের বার্তা দিয়েছেন তিনি।
ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামের স্নায়ুযুদ্ধ
ভবানীপুর কেন্দ্র নিয়ে লড়াই এখন চরম পর্যায়ে। শুরুতে শুভেন্দু এগিয়ে থাকলেও, লেটেস্ট ট্রেন্ড অনুযায়ী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯৫৬ ভোটে এগিয়ে গিয়েছেন। এই রদবদল নিয়ে শুভেন্দুর যুক্তি, প্রথম রাউন্ডের বুথগুলো মুসলিম প্রধান ছিল বলেই মমতা লিড পেয়েছেন। কিন্তু তাঁর দাবি, “৮ থেকে ১০ রাউন্ডের পর যখন ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডের মতো হিন্দু প্রধান এলাকাগুলোর গণনা শুরু হবে, তখন আমি অনেকটা লিড নিয়ে নেব।” অন্যদিকে, নন্দীগ্রামে নিজের লিড ধরে রেখেছেন শুভেন্দু।
এক নজরে বর্তমান পরিস্থিতি:
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: ভবানীপুরে ১৯৫৬ ভোটে এগিয়ে (লেটেস্ট আপডেট অনুযায়ী)।
- শুভেন্দু অধিকারী: নন্দীগ্রামে এগিয়ে এবং ভবানীপুরে জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী।
- বিজেপির দাবি: ১৩৫টি আসনে লিড এবং হিন্দু ভোটব্যাংকে বড়সড় আধিপত্য।
- কমিশনের বার্তা: এটি একেবারেই প্রাথমিক ট্রেন্ড, চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য বেলা ১২টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
শুভেন্দুর এই ‘হিন্দু-মুসলিম ইভিএম’ তত্ত্ব নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে একে ‘সাম্প্রদায়িক বিভাজনের রাজনীতি’ বলে কটাক্ষ করা হয়েছে। এখন দেখার, বেলার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইভিএমের এই ট্রেন্ড পরিবর্তনের দিকে যায় নাকি প্রত্যাবর্তনের দিকে।
