আসামে আবারও কি হিমন্ত রাজ? ভোট গণনার শুরুতেই চওড়া হচ্ছে গেরুয়া হাসি

আসাম বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার শুরু থেকেই কার্যত একতরফা দাপট দেখাচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি। ১২৬ আসনের বিধানসভায় ম্যাজিক ফিগার পার করে নব্বইয়ের বেশি আসনে এগিয়ে থেকে ফের সরকার গঠনের পথে গেরুয়া শিবির। বিশেষ করে নজর কেড়েছে হাই-প্রোফাইল কেন্দ্র জালুকবাড়ি, যেখানে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা তাঁর রাজনৈতিক আধিপত্য বজায় রেখে বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। গণনার প্রথম কয়েক ঘণ্টাতেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ‘গেরুয়া ঝড়’ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
জালুকবাড়ির অজেয় দুর্গ ও হিমন্তের ম্যাজিক
রাজনৈতিক মহলের সব কৌতূহল ছিল জালুকবাড়ি কেন্দ্রকে ঘিরে। এই কেন্দ্রটি হিমন্ত বিশ্ব শর্মার কাছে হাতের তালুর মতো চেনা। ২০০১ সাল থেকে টানা এই আসনের বিধায়ক তিনি। ২০১৫ সালে কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর ২০১৬ এবং ২০২১ সালেও এই কেন্দ্র তাঁকে দুহাত ভরে আশীর্বাদ করেছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। কংগ্রেসের তরুণ প্রার্থী বিদিশা নিয়োগ নতুন চ্যালেঞ্জ জানানোর চেষ্টা করলেও, অভিজ্ঞ হিমন্তের জনপ্রিয়তার কাছে তা কার্যত ফিকে হয়ে গেছে। পঞ্চমবারের মতো এই কেন্দ্র থেকে জয়ের পথে থাকা হিমন্ত প্রমাণ করেছেন যে, আসামের রাজনীতিতে তাঁর বিকল্প খুঁজে পাওয়া এখনও কঠিন।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা
আসামে বিজেপির এই সম্ভাব্য বড় জয় উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজনীতিতে দলটির অবস্থানকে আরও সুসংহত করবে বলে মনে করা হচ্ছে। উন্নয়নের ধারা বজায় রাখা এবং শক্তিশালী নেতৃত্বের ওপর ভোটারদের আস্থাই এই ফলাফলের মূল কারণ বলে প্রাথমিক বিশ্লেষণে উঠে আসছে। যদি এই প্রবণতা চূড়ান্ত ফলাফল পর্যন্ত বজায় থাকে, তবে আসামে টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসবে বিজেপি জোট। এতে রাজ্যে একদিকে যেমন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে, অন্যদিকে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার জাতীয় স্তরের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চূড়ান্ত ঘোষণা বাকি থাকলেও, গেরুয়া শিবিরে উৎসবের আমেজ ইতিমধ্য়েই শুরু হয়ে গিয়েছে।
