জঙ্গলমহলে ফুটছে পদ্ম: ঝালমুড়ি-রাজনীতিতে কি কিস্তিমাত করল বিজেপি? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনা যত এগোচ্ছে, জঙ্গলমহলের রাজনৈতিক সমীকরণ ততই চমকপ্রদ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ঝাড়গ্রাম আসনটি। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার আপডেট অনুযায়ী, ঝাড়গ্রামে প্রাথমিক গণনার ট্রেন্ডে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রচারের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সেই বহুল চর্চিত ‘ঝালমুড়ি খাওয়া’র ম্যাজিক কি তবে ভোটবাক্সে কাজ করল?
ঝালমুড়ি ও মোদীর জনসংযোগ
নির্বাচনী প্রচারের সময় ঝাড়গ্রামে ঝালমুড়ি খাওয়ার সেই মুহূর্তটি ছিল এবারের ভোটের অন্যতম সেরা ফ্রেম। রাস্তার ধারের এক সাধারণ দোকান থেকে প্রধানমন্ত্রীর ঝালমুড়ি কিনে খাওয়ার ভিডিও মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়েছিল। বিরোধীরা একে ‘নির্বাচনী চমক’ বলে কটাক্ষ করলেও, আজকের প্রাথমিক ফলাফল বলছে—সাধারণ মানুষের সঙ্গে মোদীর সেই সরাসরি সংযোগ হয়তো জঙ্গলমহলের মানুষের মনে গভীর রেখাপাত করেছে।
জঙ্গলমহলে ঘাসফুল বনাম পদ্ম
একসময় জঙ্গলমহল ছিল তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি। কিন্তু গত লোকসভা এবং বিধানসভা নির্বাচন থেকেই সেখানে গেরুয়া শিবিরের আধিপত্য বাড়তে শুরু করে। ঝাড়গ্রামের এই লিড বজায় থাকলে তা তৃণমূলের গ্রামীণ ভোটব্যাংকে বড়সড় ফাটল হিসেবেই গণ্য হবে। বিশেষ করে কুড়মি আন্দোলন এবং আদিবাসী ইস্যুকে কেন্দ্র করে যে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তার সুফল বিজেপি পাচ্ছে কি না, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে।
ঝাড়গ্রামের লিড কি পরিবর্তনের ইঙ্গিত?
ঝাড়গ্রামের মতো প্রান্তিক আসনে বিজেপির এগিয়ে থাকা কেবল একটি আসনের জয় নয়, বরং গোটা দক্ষিণবঙ্গের জঙ্গলমহল বেল্টে পদ্ম শিবিরের প্রভাব বিস্তারের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর লিড এবং ঝাড়গ্রামে মোদীর প্রচারের প্রভাব—সব মিলিয়ে প্রাথমিক ট্রেন্ডে বিজেপি বর্তমানে এক সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে। তবে গণনা এখনও অনেক রাউন্ড বাকি, তাই শেষ পর্যন্ত ঝালমুড়ির স্বাদ জয়ের উৎসবে পরিণত হয় কি না, সেটাই এখন দেখার।
