‘হিন্দু ইভিএম বিজেপির, মুসলিম ইভিএম তৃণমূলের’—বিস্ফোরক বিশ্লেষণে শুভেন্দু – এবেলা

‘হিন্দু ইভিএম বিজেপির, মুসলিম ইভিএম তৃণমূলের’—বিস্ফোরক বিশ্লেষণে শুভেন্দু – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনা যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে রাজনৈতিক পারদ। সোমবার বেলা পৌনে ১১টার আপডেট অনুযায়ী, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ভোটের মেরুকরণ নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর বিশ্লেষণ পেশ করেছেন। তাঁর দাবি, এবারের ভোট হয়েছে স্পষ্ট ধর্মীয় সমীকরণে—যেখানে হিন্দু প্রধান এলাকার ইভিএম বিজেপির পক্ষে এবং মুসলিম প্রধান এলাকার ইভিএম তৃণমূলের পক্ষে রায় দিয়েছে। তবে এর মাঝেই ভবানীপুর কেন্দ্রে উল্টে গেল পাশা। শুরুর রাউন্ডে পিছিয়ে থাকলেও এখন কামব্যাক করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

শুভেন্দুর বিস্ফোরক ‘ইভিএম অ্যানালিসিস’

গণনাকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে শুভেন্দু অধিকারী সংবাদমাধ্যমকে জানান, “প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে হিন্দু ইভিএম বিজেপির আর মুসলিম ইভিএম তৃণমূলের। তবে মুসলিম ভোট এবার আগের মতো একতরফা তৃণমূলের দিকে নেই।” তিনি দাবি করেন, পোস্টাল ব্যালট এবং প্রথম রাউন্ডের ট্রেন্ড অনুযায়ী বিজেপি ইতিমধ্যেই ১৩৫টির বেশি আসনে এগিয়ে রয়েছে এবং তারা নিশ্চিতভাবে সরকার গড়তে চলেছে। কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, “বাংলা শান্তি চায়। কেউ কোনো হিংসায় জড়াবেন না। কুকুর মানুষের পায়ে কামড়ালে মানুষ কুকুরের পায়ে কামড়ায় না।”

ভবানীপুরে মমতার প্রত্যাবর্তন, নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর লিড

সকাল ১০টা ৩৯ মিনিটের আপডেট অনুযায়ী, ভবানীপুর কেন্দ্রে লড়াইয়ে ফিরেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রাথমিক ধাক্কা সামলে তিনি বর্তমানে ১৯৫৬ ভোটে এগিয়ে গিয়েছেন। শুভেন্দু অবশ্য দাবি করেছেন, এটি সাময়িক। তাঁর কথায়, “প্রথম রাউন্ডের ৬টি বুথ মুসলিম প্রধান ছিল, তাই সেখানে তৃণমূল লিড পেয়েছে। ৮-১০ রাউন্ডের পর যখন হিন্দু প্রধান ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডের গণনা শুরু হবে, তখন আমি অনেকটা লিড নিয়ে নেব।” অন্যদিকে, নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে শুভেন্দু অধিকারী নিজের লিড বজায় রেখেছেন, সেখানে পিছিয়ে রয়েছেন তৃণমূলের পবিত্র কর।

অপেক্ষায় রুদ্ধশ্বাস দুপুর

রাজ্যজুড়ে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে যে ‘কাটে কি টক্কর’ চলছে, তা নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যানে স্পষ্ট। শুভেন্দুর মতে, বেলা ১২টার পরেই আসল ছবিটা পরিষ্কার হবে। একদিকে বিজেপি যখন তাদের ‘হিন্দু ভোটব্যাংক’ সংহতির ওপর ভরসা রাখছে, অন্যদিকে তৃণমূল তাকিয়ে আছে তাদের ‘মা-মাটি-মানুষ’ জোট এবং নারী ভোটারদের ওপর। শেষ পর্যন্ত মেরুকরণের রাজনীতি না কি উন্নয়নের প্রকল্প—কোনটি জয়ী হয়, তা জানতে এখন রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষায় গোটা বাংলা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *