১৬৫ পার করার চ্যালেঞ্জে আত্মবিশ্বাসী শুভেন্দু, প্রাথমিক ট্রেন্ডে কি বদলাবে বাংলার সমীকরণ!

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনা শুরুর প্রাথমিক পর্বে বিজেপি এগিয়ে থাকতেই জয়ের ব্যাপারে বড় দাবি করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার গণনার শুরুর দিকে বিজেপি সুবিধাজনক অবস্থানে আসতেই তিনি দাবি করেন, এবারের নির্বাচনে গেরুয়া শিবির ১৬৫-এর বেশি আসন নিয়ে সরকার গড়বে।
শুভেন্দুর রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও জয়ের সমীকরণ
শুভেন্দু অধিকারীর মতে, এই লিড কেবলমাত্র ‘আর্লি ট্রেন্ড’ হলেও এর মধ্যে জয়ের সুনির্দিষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, নন্দীগ্রামে প্রায় ১৫ হাজার ভোটে জয়ী হবেন তিনি। পাশাপাশি ভবানীপুর কেন্দ্রেও হিন্দু প্রধান অঞ্চলগুলোতে বিজেপির পক্ষেই ফল আসবে বলে তার বিশ্বাস। তার বিশ্লেষণে, পোস্টাল ব্যালট এবং প্রথম রাউন্ডের ট্রেন্ডেই বিজেপি শতাধিক আসনে লিড নিয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত ম্যাজিক ফিগার অতিক্রম করতে সাহায্য করবে। তবে পরিস্থিতি বিচার করে তিনি বেলা ১২টার আগে চূড়ান্ত কোনো মন্তব্য করতে নারাজ।
ভবানীপুরে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ও স্ট্রংরুম বিতর্ক
সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে ভবানীপুর কেন্দ্র, যেখানে লড়াই চলছে একেবারে সেয়ানে সেয়ানে। কখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এগিয়ে যাচ্ছেন, তো পরের রাউন্ডেই পাল্টা লিড নিচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে স্ট্রংরুমের সামনে সন্দেহজনক গাড়ি নিয়ে অভিযোগ তোলা হলেও, শুভেন্দু একে ‘হার নিশ্চিত জেনে নাটক’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তার দাবি, হিন্দু বুথগুলোর ইভিএম বিজেপির জয় নিশ্চিত করবে।
সম্ভাব্য প্রভাব ও বর্তমান পরিস্থিতি
শুভেন্দু অধিকারীর এই ১৬৫ আসনের দাবি যদি দিনের শেষে ফলে যায়, তবে তা বাংলার রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেবে। অন্যদিকে, মুসলিম ভোট ব্যাংক তৃণমূলের দিকে থাকলেও বিজেপির দাবি অনুযায়ী হিন্দু ভোটারদের মেরুকরণ ফলাফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে শুভেন্দু সাফ জানিয়েছেন, গণনার শুরুতে উত্তেজনা ছড়ানো ঠিক নয় এবং তিনি দলের কর্মীদের যেকোনো ধরণের সংঘর্ষ এড়িয়ে শান্তি বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত বাংলার মসনদ কার দখলে যায়, তার ওপরই নির্ভর করছে রাজ্যের আগামী পাঁচ বছরের রাজনৈতিক গতিপথ।
