জঙ্গলমহলে ঝালমুড়ির জাদু? ঝাড়গ্রামে প্রাথমিক ট্রেন্ডে এগিয়ে গেরুয়া শিবির

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনা যত এগোচ্ছে, জঙ্গলমহলের রাজনৈতিক সমীকরণ ততই চমকপ্রদ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে নজর কেড়েছে ঝাড়গ্রাম কেন্দ্রটি, যেখানে প্রাথমিক গণনার ট্রেন্ডে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। এই লিড ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সেই ‘ঝালমুড়ি’ কৌশলের প্রভাব নিয়ে।
মোদী ম্যাজিক ও ঝালমুড়ি কূটনীতি
নির্বাচনী প্রচারের সময় ঝাড়গ্রামে প্রধানমন্ত্রীর ঝালমুড়ি খাওয়ার ঘটনাটি কেবল জলযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; এটি ছিল জঙ্গলমহলের সাধারণ মানুষের সঙ্গে একাত্ম হওয়ার এক বড় রাজনৈতিক বার্তা। রাস্তার ধারের একটি সাধারণ দোকান থেকে ঝালমুড়ি খাওয়ার সেই ছবি ও ভিডিও ঝড়ের বেগে ভাইরাল হয়েছিল। বিরোধীরা তখন একে ‘নির্বাচনী চমক’ বলে কটাক্ষ করলেও, আজকের প্রাথমিক ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, প্রধানমন্ত্রীর সেই সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়ার কৌশল জঙ্গলমহলের ভোটারদের মনে রেখাপাত করে থাকতে পারে।
জঙ্গলমহলে ঘাসফুল বনাম পদ্ম
একসময় জঙ্গলমহল ছিল তৃণমূলের দুর্গ, যা ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি অনেকটা ধসিয়ে দিয়েছিল। ২০২১-এ তৃণমূল সেখানে হারানো জমি পুনরুদ্ধার করলেও, ২০২৬-এর প্রাথমিক প্রবণতা বলছে ঝাড়গ্রামে বিজেপি ফের শক্তিবৃদ্ধি করেছে। কুড়মি আন্দোলন থেকে শুরু করে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়া—সব মিলিয়ে জঙ্গলমহলের এই আসনটি এবার বিজেপির কাছে অত্যন্ত সম্মানের লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
প্রাথমিক প্রবণতা ও আগামীর সমীকরণ
সকাল সাড়ে ১০টার আপডেট অনুযায়ী, ঝাড়গ্রামে বিজেপি প্রার্থী তাঁর নিকটতম তৃণমূল প্রতিদ্বন্দ্বীর থেকে কয়েক হাজার ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জঙ্গলমহলের আদিবাসী ও কুড়মি ভোটব্যাংকের একটি বড় অংশ যদি বিজেপির দিকে ঝুঁকে থাকে, তবে কেবল ঝাড়গ্রাম নয়, মেদিনীপুর ও পুরুলিয়ার ফলাফলও শাসক দলের জন্য উদ্বেগজনক হতে পারে। তবে গণনা যেহেতু এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে, তাই বিকেলের আগে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না যে ঝালমুড়ির সেই ‘স্বাদ’ শেষ পর্যন্ত পদ্ম শিবিরকে জয়ের হাসি হাসাবে কি না।
