‘বিজেপিই গড়ছে সরকার!’ গণনার ট্রেন্ড দেখে হুঙ্কার শুভেন্দুর, নন্দীগ্রামের লিড আসতেই উচ্ছ্বসিত বিরোধী দলনেতা – এবেলা

‘বিজেপিই গড়ছে সরকার!’ গণনার ট্রেন্ড দেখে হুঙ্কার শুভেন্দুর, নন্দীগ্রামের লিড আসতেই উচ্ছ্বসিত বিরোধী দলনেতা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনা শুরু হতেই বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। প্রাথমিক প্রবণতা বা ‘আর্লি ট্রেন্ড’ অনুযায়ী, ঘাসফুল ও পদ্ম শিবিরের মধ্যে রুদ্ধশ্বাস লড়াই চললেও জয়ের বিষয়ে প্রবল আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার সকালে গণনার মাঝপথে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, রাজ্যে পরবর্তী সরকার গঠন করতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টিই।

প্রত্যাশা ছাপিয়ে নন্দীগ্রামে বড় লিড

নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র নন্দীগ্রাম নিয়ে রীতিমতো উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন শুভেন্দু। তিনি জানান, প্রথম রাউন্ডের শেষে তিনি প্রায় তিন হাজার ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। তাঁর কথায়, “আমি আশা করেছিলাম প্রথম রাউন্ডে বড়জোর ১১০০ ভোটের লিড পাব, কিন্তু মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন সেই প্রত্যাশাকে ছাপিয়ে গিয়েছে।” নন্দীগ্রামের এই প্রাথমিক সাফল্য তাঁর সামগ্রিক জয়ের ভিত আরও মজবুত করবে বলেই তিনি মনে করছেন।

হিন্দু ভোট বনাম মুসলিম ভোটব্যাংকের সমীকরণ

প্রাথমিক ফলের ব্যবচ্ছেদ করতে গিয়ে শুভেন্দু দাবি করেন, হিন্দু প্রধান এলাকাগুলোর ইভিএম থেকে আসা তথ্য বিজেপির অনুকূলে যাচ্ছে। অন্যদিকে, মুসলিম ভোটব্যাংক সম্পর্কে তাঁর পর্যবেক্ষণ হলো—সংখ্যালঘু ভোট এবার আর তৃণমূলের দিকে একতরফাভাবে ‘কনসোলিডেট’ বা সংহত হয়নি। মালদহ এবং উত্তর দিনাজপুরের মতো জেলাগুলোতে কংগ্রেস বেশ কয়েকটি আসনে শক্তিশালী অবস্থানে থাকায় তৃণমূলের একচেটিয়া আধিপত্যে ফাটল ধরেছে, যা পরোক্ষভাবে বিজেপিকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে।

ভবানীপুর ও চূড়ান্ত লড়াইয়ের অপেক্ষা

হাইভোল্টেজ কেন্দ্র ভবানীপুরেও শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সেয়ানে-সেয়ানে লড়াই চালাচ্ছেন। যদিও তিনি সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, এখনও খুব কম সংখ্যক ইভিএম খোলা হয়েছে, তাই পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। তবে প্রাথমিক ট্রেন্ডে যেভাবে বিজেপি তৃণমূলকে টেক্কা দিচ্ছে, তাতে সরকার পরিবর্তনের বিষয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই বলে দাবি করেছেন তিনি। বেলার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *