ভবানীপুরে শুভেন্দুর জয়জয়কার! প্রাথমিক ট্রেন্ডে পিছিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের গণনা শুরু হতেই রাজ্য রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন নাটকীয়তার সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ কলকাতার হাইভোল্টেজ কেন্দ্র ভবানীপুরে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী এগিয়ে রয়েছেন, আর পিছিয়ে পড়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর নিজের ‘ঘরের মাঠে’ এই পিছিয়ে থাকা রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।
শুভেন্দুর জোড়া লিড: ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম
এবারের নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুরের পাশাপাশি নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রাথমিক প্রবণতায় দেখা যাচ্ছে, দুই কেন্দ্রেই তিনি তাঁর নিকটতম তৃণমূল প্রতিদ্বন্দ্বীদের পেছনে ফেলে দিয়েছেন। নন্দীগ্রামে তৃণমূলের পবিত্র করের চেয়ে প্রায় ৩ হাজার ভোটে এগিয়ে রয়েছেন তিনি। সকালে লক্ষ্মী নারায়ণ মন্দিরে পুজো দিয়ে গণনা পর্যবেক্ষণে বসা শুভেন্দু আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছেন, “১০ রাউন্ডের পর ব্যবধান আরও বাড়বে। ভবানীপুর এবার পরিবর্তন দেখতে চলেছে।”
রাজ্যজুড়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
সকাল ৯টা ১২ মিনিটের আপডেট অনুযায়ী, রাজ্যের ২৯৩টি আসনের মধ্যে ১১৮টিতে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি এবং ১০৯টিতে তৃণমূল কংগ্রেস। লড়াই এতটাই সমানে-সমানে যে প্রতি মুহূর্তেই পাল্টে যাচ্ছে সমীকরণ। তবে মমতার নিজের গড় ভবানীপুরে শুভেন্দুর এই লিড বিজেপি শিবিরের কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা তৈরি করেছে। উল্লেখ্য, ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের সময় থেকেই ভবানীপুরে বিজেপির ভোটব্যাংক শক্তিশালী হতে শুরু করেছিল, যা এখন ইভিএম-এ প্রতিফলিত হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আর্লি ট্রেন্ড বনাম চূড়ান্ত ফলাফল
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, এগুলি একেবারেই প্রাথমিক দফার গণনা। ডাকযোগে আসা ‘পোস্টাল ব্যালট’ এবং ইভিএম-এর প্রথম কয়েক রাউন্ডের ফলাফল অনেক সময় চূড়ান্ত চিত্রের প্রতিফলন ঘটায় না। তাই মমতার পিছিয়ে থাকা বা শুভেন্দুর এগিয়ে যাওয়া এখনই জয়ের নিশ্চয়তা দেয় না। তবে দক্ষিণ কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে শাসকদলের এই প্রাথমিক ধাক্কা বাংলার আগামীর রাজনৈতিক মানচিত্র পরিবর্তনের এক বড় ইঙ্গিতবাহী হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিকেলের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যাবে, মমতা কি তাঁর দুর্গ রক্ষা করতে পারবেন, না কি ভবানীপুরের ইতিহাস নতুন করে লিখবেন শুভেন্দু অধিকারী।
