‘সরকার বিজেপি করছেই’, প্রাথমিক ট্রেন্ডে জয়ের হুঙ্কার শুভেন্দুর

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনা শুরুর প্রথম কয়েক ঘণ্টার প্রবণতায় উচ্ছ্বসিত বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার সকালের প্রাথমিক ট্রেন্ডে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চললেও, গেরুয়া শিবিরের জয়ের বিষয়ে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত দাবি করেছেন তিনি। বিশেষ করে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের মতো হাই-ভোল্টেজ আসনগুলোতে বিজেপির লিড দেখে শুভেন্দু দাবি করেন, বাংলায় এবার পরিবর্তনের সরকার আসা কেবল সময়ের অপেক্ষা।
প্রত্যাশা ছাপিয়ে নন্দীগ্রামে লিড
নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র নন্দীগ্রাম নিয়ে রীতিমতো উল্লাস প্রকাশ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রথম রাউন্ডের গণনা শেষে তিনি প্রায় ৩ হাজার ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “নন্দীগ্রামে আমি বড়জোর ১১০০ ভোটের লিড আশা করেছিলাম, কিন্তু মানুষ প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সমর্থন দিয়েছেন।” তাঁর মতে, ইভিএমের তথ্য অনুযায়ী হিন্দু প্রধান এলাকাগুলোতে বিজেপির একচেটিয়া আধিপত্য দেখা যাচ্ছে।
সংখ্যালঘু ভোটব্যাংকে ফাটল ও বিজেপির অঙ্ক
শুভেন্দুর দাবি অনুযায়ী, এবার মুসলিম প্রধান এলাকাগুলোতে তৃণমূলের চিরাচরিত একচেটিয়া ভোটব্যাংকে বড়সড় ফাটল ধরেছে। বিশেষ করে মালদহ এবং উত্তর দিনাজপুরের মতো জেলাগুলোতে কংগ্রেস বেশ ভালো ফল করায় তৃণমূলের ভোট শতাংশ কমেছে। এর সরাসরি সুবিধা বিজেপি পাবে বলে মনে করছেন তিনি। শুভেন্দুর কথায়, “মুসলিম ইভিএমগুলো তৃণমূলের অনুকূলে থাকলেও আগের মতো আর কনসোলিডেশন নেই। কংগ্রেসের ভালো ফল আসলে আমাদের জয়কেই নিশ্চিত করছে।”
সরকার গড়ার বিষয়ে অনড় আত্মবিশ্বাস
প্রাথমিক ট্রেন্ড অনুযায়ী রাজ্যের ১১৮টি আসনে বিজেপি এবং ১০৯টিতে তৃণমূল এগিয়ে থাকার খবর আসতেই গেরুয়া শিবিরে খুশির হাওয়া বইতে শুরু করেছে। যদিও লড়াই অত্যন্ত সমানে-সমানে চলছে, তবুও শুভেন্দুর দাবি, “সরকার বিজেপি করছেই।” তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একেবারেই প্রাথমিক চিত্র। পোস্টাল ব্যালট এবং প্রথম দিকের কয়েক রাউন্ডের ফলাফল অনেক সময় চূড়ান্ত পরিণতির থেকে আলাদা হয়। তবুও ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর বর্তমান আধিপত্য বিজেপির মনোবল কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বাংলার মসনদ শেষ পর্যন্ত কার দখলে থাকবে, তা বিকেলের মধ্যেই চূড়ান্তভাবে পরিষ্কার হয়ে যাবে।
