‘গদ্দারি করতে দিল্লি গিয়েছেন দাদা’! চিটফান্ড অতীত তুলে সুদীপকে তীব্র আক্রমণ মহুয়ার – এবেলা

‘গদ্দারি করতে দিল্লি গিয়েছেন দাদা’! চিটফান্ড অতীত তুলে সুদীপকে তীব্র আক্রমণ মহুয়ার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের কোন্দল এবার চরম আকার ধারণ করল। দলের ‘বেসুরো’ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন আরেক সাংসদ মহুয়া মৈত্র। বর্ষীয়ান নেতাকে ‘দাদা’ সম্বোধন করলেও, মহুয়ার নিশানায় উঠে এসেছে সুদীপের চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে গ্রেপ্তারির অতীত এবং বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান।

প্রকাশ্যে দলের মুষলপর্ব

২০১৭ সালে রোজভ্যালি আর্থিক কেলেঙ্কারিতে ইডির হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই প্রসঙ্গ টেনে মহুয়া মৈত্র তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে অভিযোগ করেছেন, সেসময় ভুবনেশ্বরের জেলে কারাবাস এড়াতে তৎকালীন সরকারের সাহায্য নিয়ে অসুস্থতার ‘ভান’ করেছিলেন তিনি। কৃষ্ণনগরের সাংসদের তোপ, এবারও সেই অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়েই দিল্লির হাসপাতালে গিয়ে দলের সঙ্গে গদ্দারি করেছেন সুদীপ। এই প্রসঙ্গে দলের অন্দরে সুদীপের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে পরিচিত তাপস রায় এবং কুণাল ঘোষের অতীত অভিযোগগুলিকেও সঠিক বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন মহুয়া।

বিদ্রোহের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

সাম্প্রতিক ছাব্বিশের নির্বাচনে দলের বিপুল ভরাডুবির পরই তৃণমূলের অন্দরে এই ভাঙন স্পষ্ট হয়েছে। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ২০ জন বিক্ষুব্ধ সাংসদ স্পিকারকে চিঠি দিয়ে নতুন দল ‘এনসিপিআই’-এর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। নির্বাচনে ব্যর্থতার জেরে তৈরি হওয়া এই বিদ্রোহই দলের বর্তমান প্রকাশ্যে আসা মুষলপর্বের প্রধান কারণ। মহুয়া মৈত্রর এই কড়া আক্রমণের ফলে তৃণমূলের সংসদীয় ও পরিষদীয় দলের এই বিভাজন যে আর গোপন নেই তা স্পষ্ট হয়ে গেল। এর ফলে আগামী দিনে দলের সাংগঠনিক শক্তি যেমন ধাক্কা খাবে, তেমনই শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি আস্থার সংকটেও সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *