গরমের শুরুতে ঘরে ঘরে পেটের সমস্যা, কখন সতর্ক হওয়া জরুরি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
গ্রীষ্মের দাবদাহ বাড়ার সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে পেটের রোগ। আন্ত্রিক থেকে শুরু করে হজমের গোলমাল, গরমের মরসুমে এই ধরনের উপসর্গকে অনেকেই অত্যন্ত সাধারণ বলে ধরে নেন। তবে চিকিৎসকদের মতে, সব ক্ষেত্রে এই সমস্যাকে অবহেলা করা বড় বিপদের কারণ হতে পারে। ‘আমেরিকান জার্নাল অফ গ্যাস্ট্রোলজি’-তে প্রকাশিত একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, গরমের দিনে অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার এবং কার্বনযুক্ত পানীয় খাওয়ার ফলে পেটের সমস্যা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পায়। পরিসংখ্যান বলছে, গ্রীষ্মকালে প্রায় ৫৬ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে হজমের সমস্যায় ভোগেন।
পেটখারাপের নেপথ্যে মূল কারণ
গ্রীষ্মকালীন পেটের সমস্যার জন্য মূলত অনিয়মিত জীবনযাত্রা এবং আবহাওয়ার পরিবর্তনকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। গরমের কারণে শরীরে জলের ঘাটতি বা জলশূন্যতা তৈরি হলে স্বাভাবিক হজমক্ষমতা ব্যাহত হয়। এর পাশাপাশি রাস্তাঘাটের অপরিচ্ছন্ন খাবার ও জল পানের মাধ্যমে পেটে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটে। অতিরিক্ত তৃষ্ণায় চিনিযুক্ত সোডা বা কার্বনেটেড পানীয় খাওয়ার ফলেও পেটের ভেতরের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চিকিৎসকদের মতে, শরীরে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা কমে গেলে অন্ত্রের কার্যকারিতা হ্রাস পায়, যা হজম প্রক্রিয়াকে শ্লথ করে দেয়। খাওয়ার পরেই পেট ফাঁপা, অল্প খেলেই পেট ভরে যাওয়া বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা গভীর রোগের সংকেত হতে পারে।
লক্ষণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
সাধারণ পেটখারাপ ভেবে ঘরোয়া পথ্য বা ওষুধ খেয়ে সাময়িক আরাম মিললেও, সমস্যা পুরোপুরি নির্মূল না হলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। আচমকা পেটে তীব্র যন্ত্রণা, পেটের সমস্যার পাশাপাশি দ্রুত ওজন হ্রাস পাওয়া, মলের সঙ্গে রক্তপাত কিংবা তীব্র কোষ্ঠকাঠিন্য ও আন্ত্রিকের মতো লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। চিকিৎসকদের মতে, এই ধরনের উপসর্গগুলিকে অবহেলা করলে তা পরবর্তীতে ইরিটেবল বাওয়েল সিন্ড্রোম (আইবিএস), অন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণ কিংবা স্থায়ী পরিপাকজনিত জটিলতায় রূপ নিতে পারে।
