গরুড়পুরাণ অনুযায়ী ৩৬টি নরক! প্রতিটি পাপের বিচার হয়, পরস্ত্রীর সাথে সম্পর্ক স্থাপনকারীদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম পবিত্র গ্রন্থ গরুড় পুরাণে মৃত্যুর পরবর্তী জীবনের এক রোমহর্ষক ও বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। এই গ্রন্থ অনুযায়ী, মানুষের ইহকালের প্রতিটি কর্মের হিসাব পরকালে দিতে হয়। যারা জীবনে অধর্ম ও পাপাচারে লিপ্ত হয়, মৃত্যুর পর তাদের কর্মফল অনুযায়ী বিভিন্ন নরকে নিক্ষেপ করা হয়। গরুড় পুরাণে এমন ৩৬টি বিশেষ নরকের উল্লেখ রয়েছে, যেখানে পাপের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির বিধান দেওয়া হয়েছে।
কর্মফল অনুযায়ী শাস্তির ভিন্নতা
গরুড় পুরাণের বর্ণনা অনুসারে, প্রতিটি অপরাধের জন্য আলাদা নরক নির্ধারিত। উদাহরণস্বরূপ, যারা পরস্ত্রী গমনে লিপ্ত হয়, তাদের ‘অন্ধতামিস্র’ নরকে অনাহারে রেখে অমানবিক কষ্ট দেওয়া হয়। আবার যারা নিরপরাধ মানুষকে কষ্ট দেয়, ‘রৌরব’ নরকে তাদের বিষধর সাপ দিয়ে দংশন করানো হয়। এমনকি মিথ্যা বলা, ভ্রূণহত্যা, প্রতারণা বা চুরির মতো অপরাধের জন্যও রয়েছে তপ্ত তৈলে দগ্ধ হওয়া বা কাঁটাযুক্ত গাছে ঝুলিয়ে রাখার মতো ভয়াবহ সব শাস্তি।
পরকাল ও পুনর্জন্মের চক্র
এই গ্রন্থে কেবল নরকবাসের যন্ত্রণাই নয়, বরং শাস্তির পর আত্মার গতির বিষয়েও আলোকপাত করা হয়েছে। নরক ভোগের পর আত্মাকে তার কর্মফল অনুযায়ী ৮৪ লক্ষ যোনির যেকোনো একটিতে জন্মগ্রহণ করতে হয়। পশুপাখি, কীটপতঙ্গ বা গাছপালা হিসেবে জন্ম নেওয়াকেও এক প্রকার সাজা হিসেবে গণ্য করা হয়। গরুড় পুরাণের এই জীবনদর্শন মূলত মানুষকে ইহকালে নৈতিক ও ধার্মিক পথে চলতে উদ্বুদ্ধ করে।
এক ঝলকে
- গরুড় পুরাণ অনুযায়ী পাপের দণ্ড দিতে ৩৬ প্রকার ভিন্ন ভিন্ন নরকের অস্তিত্ব রয়েছে।
- প্রতারণা, পরকীয়া, মিথ্যাচার এবং অন্যায়ের জন্য নির্দিষ্ট ও অত্যন্ত কঠোর শাস্তির বিধান বর্ণিত।
- অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী বিষধর সাপের কামড় থেকে শুরু করে ফুটন্ত তেলে নিক্ষেপের মতো বর্ণনা পাওয়া যায়।
- নরকবাস শেষে কর্মফল অনুযায়ী আত্মাকে ৮৪ লক্ষ যোনির চক্রে পুনরায় জন্মগ্রহণ করতে হয়।
