গরুপাচার রুখতে ‘অ্যাকশন মোডে’ লালবাজার, অবৈধ আস্তানা ও কসাইখানা বন্ধের কড়া নির্দেশ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যজুড়ে অবৈধ গবাদি পশু বাণিজ্য ও পাচার রোধে নজিরবিহীন কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে নতুন সরকার। সোমবার নবান্নে পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী গবাদি পশু পরিবহন ও জবাই সংক্রান্ত আইন কঠোরভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন। এই নির্দেশের পরেই কলকাতা পুলিশের সদর দপ্তর লালবাজার থেকে শহরের প্রতিটি থানাকে বিশেষ সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে।
অবৈধ পরিকাঠামো ও পরিবহনে কড়া নজরদারি
লালবাজারের নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, কলকাতা পুরসভা এলাকার মধ্যে গবাদি পশুর কোনো শেড বা আস্তানা তৈরির অনুমতি নেই। অথচ দীর্ঘ সময় ধরে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে গড়ে ওঠা এই ধরনের অবৈধ আস্তানা ও হাটবাজারগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। প্রতিটি থানাকে নিয়মিত তল্লাশি চালিয়ে অবৈধ পরিবহন ও মজুতের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্যিক যানবাহনে তল্লাশি চালিয়ে ব্যবসায়ীদের বৈধ কাগজপত্র ও লাইসেন্স খতিয়ে দেখা এখন বাধ্যতামূলক। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্ত বাজার ছাড়া অন্য কোনো স্থানে গবাদি পশুর কেনাবেচা চলতে দেওয়া হবে না।
আইন প্রয়োগ ও পাচার রোধে কঠোর পদক্ষেপ
রাজ্য সরকার ‘পশ্চিমবঙ্গ প্রাণী জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন’ এবং ‘গবাদি পশু লাইসেন্সিং আইন’ অত্যন্ত কড়াকড়িভাবে প্রয়োগ করতে বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে ১৪ বছরের কম বয়সী গবাদি পশু জবাই এবং পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর ঊর্ধ্বের গবাদি পশুর ক্ষেত্রে পশুচিকিৎসা আধিকারিকের অনুমোদন ও নজরদারি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে একদিকে যেমন বেআইনি কসাইখানাগুলো বন্ধ হবে, অন্যদিকে পশুসম্পদ রক্ষায় শৃঙ্খলা ফিরবে বলে মনে করা হচ্ছে।
পাশাপাশি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে গবাদি পশু পাচার রুখতে বিশেষ কৌশল গ্রহণ করেছে প্রশাসন। সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলোতে নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি পাচারচক্রের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরকারি এই তৎপরতার ফলে রাজ্যে দীর্ঘদিনের অনিয়ন্ত্রিত পশু বাণিজ্য ও আন্তঃসীমান্ত পাচার উভয়ই বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।
