গা ঢাকা দিয়েও শেষরক্ষা নেই! নিট প্রশ্ন ফাঁসে এবার নাসিক থেকে পাকড়াও ডাক্তারি পড়ুয়া – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা বা নিট-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের তদন্তে বড়সড় সাফল্য পেল মহারাষ্ট্র পুলিশ। গা ঢাকা দিয়েও শেষ রক্ষা হল না; নাসিক থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে শুভম খায়রনার নামে এক ডাক্তারি পড়ুয়াকে। পুলিশের দাবি, ধৃত যুবক ভোপালের একটি মেডিকেল কলেজের ছাত্র এবং এই আন্তঃরাজ্য প্রশ্ন ফাঁস চক্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র।
ছাপাখানা থেকে হোয়াটসঅ্যাপে কারচুপি
প্রাথমিক তদন্তে রাজস্থান পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (এসওজি) জানতে পেরেছে, নাসিকের একটি ছাপাখানা থেকেই মূল প্রশ্নপত্রটি ফাঁস করা হয়েছিল। সেখান থেকে একটি ‘গেস পেপার’ তৈরি করা হয়, যার মধ্যে থাকা ১২০টি প্রশ্ন মূল পরীক্ষার রসায়ন ও জীববিজ্ঞানের প্রশ্নের সঙ্গে হুবহু মিলে গিয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, শুভম সেই হাতে লেখা প্রশ্নপত্রের একটি হার্ড কপি সংগ্রহ করে হরিয়ানার এক ব্যক্তিকে পাঠিয়েছিলেন। এরপর মোটা টাকার বিনিময়ে সেই তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হয় বিভিন্ন কোচিং সেন্টার ও হোস্টেল কর্মীদের কাছে।
ছয় রাজ্যে বিস্তৃত জালিয়াতির জাল
এই চক্রের শিকড় অত্যন্ত গভীরে বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা। রাজস্থানের সিকার থেকে এক কোচিং কাউন্সেলরকে আটক করার পর জানা গেছে, একেকটি প্রশ্নপত্র অন্তত ৫ লক্ষ টাকায় বিক্রি করা হয়েছিল। মহারাষ্ট্র, বিহার, রাজস্থান ও উত্তরাখণ্ড-সহ মোট ছয়টি রাজ্যে অন্তত ৪৫ জনের একটি সুসংগঠিত দল এই কারবারের সঙ্গে যুক্ত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিশেষ করে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল এই গোপন নথি।
ইতিমধ্যেই মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্তভার সিবিআই-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা মনে করছে, ধৃত শুভম খায়রনারকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এই বিশাল চক্রের মূল হোতাদের হদিশ পাওয়া সম্ভব হবে। এই প্রশ্ন ফাঁসের ফলে কয়েক হাজার মেধাবী পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা জাতীয় স্তরে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে।
