গিলগিট-বালটিস্তানে ক্ষমতা ধরে রাখতে মরিয়া আসিম মুনির, ভোটের লড়াইয়ে নামানো হলো নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনকে! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পাক অধিকৃত কাশ্মীরের গিলগিট-বালটিস্তান অঞ্চলে আগামী ৭ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নির্বাচন। তবে এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় শাসনের প্রতি বীতশ্রদ্ধ ও ক্ষুব্ধ এই অঞ্চলের মানুষের রায় যেন কোনোভাবেই ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে না যায়, সেজন্য কোমর বেঁধে নেমেছে পাক সেনা। নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে এবার পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির নির্বাচনে নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠনগুলিকে পুরোপুরি ছাড় দিয়েছেন বলে বিভিন্ন গোয়েন্দা সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
বিরোধী দমনে কঠোর সেনা এবং ছায়া প্রার্থীদের রমরমা
নির্বাচনের ফল নিজেদের পক্ষে নিশ্চিত করতে গিলগিট-বালটিস্তানের স্থানীয় বিরোধী নেতাদের ওপর নেমে এসেছে তীব্র দমন-পীড়ন। বিশেষ করে ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-কে মূল লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে পাক সেনা। দলের প্রায় সমস্ত শীর্ষ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকিদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি নির্বাচনে ৪0৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৭২ জনই নির্দল হিসেবে দাঁড়িয়েছেন, যাদের বড় অংশই সেনা ও সরকারের পুতুল হিসেবে কাজ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
জঙ্গিদের রাজনৈতিক পুনর্বাসন ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ১৯৯৭ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে পাকিস্তানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ‘তেহরিক-ই-লাব্বাইক পাকিস্তান’ (টিএলপি)-এর মতো উগ্রপন্থী গোষ্ঠীকে এবার রাজনৈতিক দল হিসেবে ভোটে লড়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, অতীতে লস্কর-ই-তইবাকে যেভাবে ‘মিল্লি মুসলিম লিগ’ নামে নির্বাচনে নামানো হয়েছিল, এবারও একই কৌশলে টিএলপি-কে ব্যবহার করছে আসিম মুনির প্রশাসন।
এই পদক্ষেপের ফলে গিলগিট-বালটিস্তানে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সম্পূর্ণ ধ্বংসের মুখে পড়েছে। ক্ষমতার লোভে উগ্রপন্থী ও নিষিদ্ধ জঙ্গিদের মূল স্রোতের রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার এই পাকিস্তানি কৌশল পুরো দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বড়সড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
