গোঁফ কামিয়েও শেষ রক্ষা হলো না, কেরল থেকে গ্রেপ্তার আরামবাগের প্রাক্তন পৌরপ্রধান স্বপন নন্দী! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
গ্রিন সিটি প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির মামলায় অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন আরামবাগ পৌরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা বর্তমান কাউন্সিলর স্বপন নন্দী। ঘটনা জানাজানি হতেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। গ্রেপ্তারি এড়াতে নিজের চেনা অবয়ব বদলে, গোঁফ কামিয়ে ভিন রাজ্যে পালিয়েও রেহাই পাননি এই তৃণমূল নেতা। কেরল থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে রাজ্যে ফিরিয়ে আনছে আরামবাগ থানার পুলিশ।
৭ কোটির গ্রিন সিটি প্রকল্প ও দুর্নীতির খতিয়ান
ঘটনার সূত্রপাত ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষে। আরামবাগ পৌরসভা এলাকায় গ্রিন সিটি প্রকল্পের আওতায় পরিবেশবান্ধব সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। লক্ষ্য ছিল, এলাকার ৩৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শিশু শিক্ষা কেন্দ্র এবং ১১টি আপার প্রাইমারি ও হায়ার সেকেন্ডারি বিদ্যালয়ের ছাদে সোলার প্যানেল বসিয়ে মোট ৭৬৪.৪৬ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা। এই উৎপাদিত বিদ্যুৎ বিদ্যালয়গুলোর পাশাপাশি পৌরসভার স্ট্রিট লাইটেও ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল। ই-টেন্ডারের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের মোট বরাদ্দ ছিল ৭ কোটি ২৪ লক্ষ টাকা।
অভিযোগ ওঠে, উদ্বোধনের ফলক বসানো হলেও বাস্তবে লাইট ও সৌর প্যানেলগুলোর কোনো অস্তিত্বই ছিল না। উল্টো পরিস্থিতির শিকার হয়ে পৌরসভার ৩০টি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সোলার প্যানেলগুলো খুলে নেওয়ার জন্য আবেদন জানায়। এই ঘটনায় বিগত তৃণমূল পরিচালিত বোর্ডের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে আরামবাগ পৌরসভার বোর্ড পরিবর্তন হলে নতুন চেয়ারম্যান সমীর ভান্ডারী বিগত বোর্ডের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও গ্রেপ্তারের প্রভাব
তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন এই মামলার তদন্ত কার্যত চাপা পড়েছিল। তবে রাজ্যে নতুন সরকার আসার পরেই পুলিশ প্রশাসন এই দুর্নীতি মামলা নিয়ে নড়েচড়ে বসে। লোকসভা ভোটের ফল প্রকাশের পরপরই এলাকা ছেড়ে চম্পট দেন তৎকালীন তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক স্বপন নন্দী। নিজের চেনা রূপ লুকাতে গোঁফ কামিয়ে ছদ্মবেশ ধারণ করলেও শেষ পর্যন্ত পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারি এড়াতে পারেননি তিনি।
এই মামলায় ইতিমধ্যেই তৎকালীন পৌরসভার অস্থায়ী ইঞ্জিনিয়ার মানস কুন্ডু, ঠিকাদার স্বর্ষাণু ঘোষ এবং অস্থায়ী ইলেকট্রিক সুপারভাইজার কৌস্তুভ মুখোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চুঁচুড়া আদালতের নির্দেশে তাঁদের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জেরা করছেন আরামবাগের এসডিপিও সুপ্রভাত চক্রবর্তী। স্বপন নন্দীর এই গ্রেপ্তারি গ্রিন সিটি দুর্নীতি মামলার তদন্তে একটি বড় মোড়। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই কোটি টাকার কেলেঙ্কারির নেপথ্যে থাকা অন্যান্য প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব এবং রাজ্যের প্রাক্তন এক হেভিওয়েট মন্ত্রীর যোগসূত্রের বিষয়টিও এবার প্রকাশ্যে আসতে পারে।
