গোর্খাদের বিচার দেবে বিজেপিই, মমতাকে কড়া চ্যালেঞ্জ অমিত শাহের!

২০২৬ লক্ষ্য উত্তরবঙ্গ: অমিত শাহের হুঙ্কারে কি বদলাবে রাজনীতির সমীকরণ?
বঙ্গবন্ধু ও উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে এক নতুন মোড় উন্মোচিত হলো কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের জলপাইগুড়ির জনসভার মাধ্যমে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে উত্তরবঙ্গের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা এবং আবেগকে হাতিয়ার করেছে বিজেপি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলার পাশাপাশি গোর্খা সমস্যাসহ একাধিক ইস্যু নিয়ে বড় প্রতিশ্রুতি দিলেন শাহ। এই জনসভা কেবল নির্বাচনের ঢাকে কাঠি নয়, বরং উত্তরবঙ্গকে ঘিরে গেরুয়া শিবিরের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার প্রতিফলন।
গোর্খা সমস্যা সমাধানে বিশেষ প্রতিশ্রুতি ও মামলা প্রত্যাহার
পাহাড়ের অস্থিরতাকে পেছনে ফেলে শান্তি ফেরাতে বিজেপি তাদের নির্বাচনী কৌশলের অন্যতম কেন্দ্রে রেখেছে গোর্খা সমস্যাকে। কেন্দ্রীয় সরকারের দৃঢ় বার্তা, রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠিত হলে গোর্খা সমস্যার স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান করা হবে। শুধু তাই নয়, গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনের সময় গোর্খা নেতা ও কর্মীদের বিরুদ্ধে যে সকল পুলিশি মামলা দায়ের করা হয়েছিল, তা প্রত্যাহারের ঘোষণা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পাহাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের এই দাবিকে সামনে রেখে বিজেপির লক্ষ্য হলো সেখানকার জনমানসে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা আরও মজবুত করা।
চা শ্রমিক ও অর্থনীতিতে পরিবর্তনের ছোঁয়া
উত্তরবঙ্গের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি চা বাগানের শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নেও বিশেষ ইঙ্গিত দিয়েছেন অমিত শাহ। তার ঘোষিত পরিকল্পনার মধ্যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো:
- আড়াই বছরের মধ্যে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকার গণ্ডি অতিক্রম করানোর প্রতিশ্রুতি।
- উত্তরবঙ্গের ত্রাণ তহবিলে ঘটা ১০০ কোটি টাকার দুর্নীতির তদন্ত এবং সেই অর্থ পুনরুদ্ধার করে জনগণের হাতে তুলে দেওয়ার আশ্বাস।
- রাজবংশী ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফশিলের অন্তর্ভুক্ত করার আইনি প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা।
ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক அடையாள রাজনীতি
উন্নয়নের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় আবেগকে প্রশ্রয় দিয়ে ভোটব্যাংকে প্রভাব ফেলতে চায় বিজেপি। ঐতিহাসিক জলপেশ মন্দিরের পরিকাঠামো উন্নয়নে চরম অবহেলার অভিযোগ তুলে শাহ ঘোষণা করেছেন যে, ক্ষমতায় এলে ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে মন্দিরের আধুনিকীকরণ এবং ভক্তদের জন্য উন্নত পরিষেবা প্রদান করা হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে মূলত উত্তরবঙ্গের বৃহত্তর জনপদকে ধর্মীয় পরিচিতির মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করছে দল।
রাজনৈতিক সমীকরণ ও সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ
উত্তরবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তৃণমূল কংগ্রেস এবং অনীত থাপার গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চার জোটের বিপরীতে দাঁড়িয়েছে বিজেপি। যদিও বিমল গুরুংয়ের সমর্থন বিজেপি পাওয়ার আশা করছে, তবে এবারের লড়াই অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। দিলীপ ঘোষ কিংবা সুকান্ত মজুমদারদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এই সরাসরি হস্তক্ষেপ পাহাড় ও সমতলের সমীকরণে কতটা পরিবর্তন আনে, তা এখন দেখার বিষয়। আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার নির্বাচনেই উত্তরবঙ্গের মানুষ তাদের রায় দেবেন, যা এই অঞ্চলের আগামী দিনের রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ করবে।
এক ঝলকে
- প্রধান প্রতিশ্রুতি: গোর্খা সমস্যার স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে থাকা সমস্ত পুলিশি মামলা প্রত্যাহার।
- আর্থিক উন্নয়ন: চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকার বেশি বৃদ্ধি এবং ত্রাণ তহবিলের ১০০ কোটি টাকার দুর্নীতি তদন্তে বিশেষ উদ্যোগ।
- সাংস্কৃতিক এজেন্ডা: রাজবংশী ভাষাকে অষ্টম তফশিলে অন্তর্ভুক্ত করা এবং জলপেশ মন্দির সংস্কারে ৫০ কোটি টাকার বরাদ্দ।
- ভোটের দিনক্ষণ: দার্জিলিং ও উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলিতে ২৩ এপ্রিল ভোটগ্রহণ হবে এবং ফলাফল প্রকাশিত হবে ৪ মে।
