৮১৫ আসনের গোলকধাঁধায় কি দক্ষিণ ভারত দখলের নীল নকশা!

লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে সংশয়: সরকারি প্রতিশ্রুতি ও সাংবিধানিক জটিলতা
২০২৬ সালের ১৬ এপ্রিল কেন্দ্রীয় সরকারের উত্থাপিত ডিলিমিটেশন বা সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিল নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সংসদে আশ্বস্ত করেছেন যে, আসন বৃদ্ধির ফলে কোনো রাজ্যের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হবে না এবং প্রতিটি রাজ্যে আসন সংখ্যা ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হবে। তবে বিরোধীদের অভিযোগ, সরকারের এই মৌখিক প্রতিশ্রুতির সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে পেশ করা বিলের লিখিত বয়ানের বড় ধরনের অসামঞ্জস্য রয়েছে। বিলে লিখিত কোনো গ্যারান্টি না থাকায় এই দাবির কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের এই প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সংবিধানের ৮১ নম্বর অনুচ্ছেদের মৌলিক বিরোধ রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী লোকসভার প্রতিটি কেন্দ্রের জনসংখ্যার অনুপাত সমান হতে হবে। কার্যকর জনশুমারি বা ২০১১ সালের সেন্সাস অনুযায়ী সীমানা পুনর্নির্ধারণ করলে জনসংখ্যার হারের কারণে উত্তর ভারতের রাজ্যগুলোর আসন সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে, যেখানে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোর বৃদ্ধি হবে খুবই সামান্য। ফলে সরকারের ‘সব রাজ্যে ৫০ শতাংশ আসন বৃদ্ধি’র দাবি গাণিতিক ও সাংবিধানিকভাবে মেলানো প্রায় আসাম্ভব। এছাড়া, মহিলা সংরক্ষণ বিলের আড়ালে এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হিন্দি বলয়ের রাজনৈতিক আধিপত্য কায়েমের আশঙ্কা করছে বিরোধী দলগুলো, যা ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভারসাম্যকে বিঘ্নিত করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
