নিজেরই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চরম হেনস্থার মুখে সুন্দর পিচাই! গুগল কর্তার ভাষণ চলাকালীন দলবদ্ধ ওয়াকআউট ছাত্রদের – এবেলা

নিজেরই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চরম হেনস্থার মুখে সুন্দর পিচাই! গুগল কর্তার ভাষণ চলাকালীন দলবদ্ধ ওয়াকআউট ছাত্রদের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ক্যালিফোর্নিয়া: নিজেরই পুরোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে নজিরবিহীন হেনস্থা ও প্রতিবাদের মুখে পড়লেন গুগল (Google) ও অ্যালফাবেটের সিইও সুন্দর পিচাই। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তব্য পেশ করার সময় একদল পড়ুয়া আচমকাই আসন ছেড়ে বেরিয়ে যান এবং তীব্র বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।

জানা গেছে, সুন্দর পিচাই মঞ্চে উঠে বলতে শুরু করার কিছুক্ষণের মধ্যেই শতাধিক প্যালেস্টাইনপন্থী পড়ুয়া একযোগে লাইন দিয়ে হল থেকে ওয়াকআউট করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারী ছাত্ররা প্যালেস্টাইনের পতাকা উড়িয়ে, তীব্র আওয়াজে বাঁশি বাজিয়ে এবং স্লোগান দিয়ে অনুষ্ঠানস্থলেই বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

কেন গুগল কর্তার ওপর এই ক্ষোভ?

এই নজিরবিহীন প্রতিবাদের মূলে রয়েছে গুগল ও অ্যামাজনের একটি বিতর্কিত আন্তর্জাতিক চুক্তি— ‘প্রজেক্ট নিম্বাস’ (Project Nimbus)। এই চুক্তির আওতায় ইজরায়েল সরকার ও বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সেনাবাহিনী গুগলের ক্লাউড, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তি এবং ডেটা সেন্টার ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে। পড়ুয়াদের অভিযোগ, এই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে প্যালেস্টাইনে হামলা চালানো হচ্ছে। প্রযুক্তি সংস্থাগুলির এই অনৈতিক চুক্তির বিরুদ্ধেই ‘স্টুডেন্টস ফর জাস্টিস ইন প্যালেস্টাইন’ এবং ‘নো টেক ফর অ্যাপারথাইড’-এর মতো ছাত্র সংগঠনগুলি আগে থেকেই সুন্দর পিচাইকে বয়কট করার ডাক দিয়েছিল।

বিক্ষোভের মাঝেই বার্তা পিচাইয়ের:

হলে তুমুল হইহট্টগোল এবং ছাত্রদের ওয়াকআউটের মাঝেই অবশ্য নিজের বক্তব্য থামাননি স্ট্যানফোর্ডের প্রাক্তনী সুন্দর পিচাই। মাথা ঠান্ডা রেখে তিনি তাঁর ভাষণ চালিয়ে যান। নিজের ছাত্রজীবনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে নতুন স্নাতকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “প্রতিটি প্রজন্মই নিজস্ব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়। কিন্তু মানুষ কীভাবে সেই পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে এবং প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে, সেটাই ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে।”

সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা বিতর্ক চলায়, পিচাই এদিন তাঁর ভাষণে সরাসরি AI প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান। পরিবর্তে তিনি শিক্ষার্থীদের ইতিবাচক ভাবনাকে বেছে নেওয়ার বা ‘Choose optimism’-এর বার্তা দেন। তবে নিজের চোখের সামনে ঘটে যাওয়া এই বিপুল বিক্ষোভ নিয়ে মঞ্চে বা প্রকাশ্যে আলাদা করে কোনও মন্তব্য করেননি গুগল প্রধান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *