চড়া গরমে নাজেহাল কলকাতা, স্বস্তি দিতে আজই নামছে ঝড়-বৃষ্টির দাপট – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
তীব্র গরম আর অতিরিক্ত আর্দ্রতার জোড়া ফলায় রীতিমতো নাজেহাল সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ। দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও গরমের রেশ টের পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে কলকাতার বাসিন্দাদের জন্য সকাল পেরোতেই রোদের তাপে রাস্তায় বের হওয়া কার্যত আসাম্ভব হয়ে উঠছে। তবে এই দমবন্ধ করা পরিস্থিতি থেকে কিছুটা স্বস্তি দিতে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে আজ ঝড়-বৃষ্টির জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
কলকাতায় অস্বস্তির মধ্যেই বৃষ্টির পূর্বাভাস
আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টায় কলকাতার আকাশ মূলত মেঘলা থাকবে। মহানগরে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আজ শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে ঘোরাফেরা করতে পারে। বাতাসে সর্বোচ্চ আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ৮৭ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছানোর কারণে দিনভর ঘর্মাক্ত ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতি বজায় থাকবে। তবে বিকালের দিকে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হলে সাময়িকভাবে গরমের তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে।
জেলায় জেলায় তেড়ে আসছে ঝড়
কলকাতা সংলগ্ন জেলাগুলোতে আবহাওয়া বড়সড় পরিবর্তনের মুখে। পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, পূর্ব মেদিনীপুর, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, হুগলি এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই জেলাগুলোর কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টির সঙ্গে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বা কালবৈশাখীর মতো ঝড় বয়ে যেতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলোতেও বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
উত্তরবঙ্গে ভারী বর্ষণের সতর্কতা
টানা বৃষ্টির কারণে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে তাপমাত্রা খুব বেশি বাড়তে পারেনি। আগামী কয়েক ঘণ্টায় দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। এর মধ্যে জলপাইগুড়ি, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ারের দু-এক জায়গায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে, যেখানে ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
মূলত বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্য এবং স্থানীয়ভাবে তৈরি হওয়া বজ্রগর্ভ মেঘের কারণেই এই ঝড়-বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই ঝড়-বৃষ্টির ফলে সাময়িকভাবে তাপমাত্রা কমলেও বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে ভ্যাপসা গরম পুরোপুরি কাটবে না। এছাড়া, আকস্মিক দমকা হাওয়ার কারণে গাছপালা ভেঙে পড়া বা নিচু এলাকায় সাময়িক জলজমার মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে, যা সোমবারের ব্যস্ত সময়ে যাতায়াতে কিছুটা বিঘ্ন ঘটাতে পারে।
