চন্দ্রনাথ খুনে খরচ ১ কোটি! শার্প শ্যুটার থেকে আধুনিক অস্ত্র—কাউন্টডাউন শুরু হতেই তদন্তে সিবিআই – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে পেয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। প্রাথমিক তদন্তে গোয়েন্দাদের অনুমান, এই খুনের নীল নকশা বাস্তবায়ন করতে খুনিরা প্রায় এক কোটি টাকারও বেশি অর্থ ব্যয় করেছে। মঙ্গলবার দুপুরে উত্তর ২৪ পরগনার দোলতলার দোহাড়িয়ায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করেন সিবিআই-এর বিশেষ তদন্তকারী দলের (SIT) সদস্যরা। ডিআইজি পঙ্কজ কুমার সিংয়ের নেতৃত্বে সাত সদস্যের এই দল বৈজ্ঞানিক তথ্য ও ফরেনসিক নমুনা সংগ্রহের মাধ্যমে খুনের নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালীদের হদিস পাওয়ার চেষ্টা করছে।
পেশাদারিত্ব ও বিপুল খরচ
তদন্তকারী আধিকারিকদের মতে, চন্দ্রনাথ রথকে খুন করা হয়েছে অত্যন্ত নিখুঁত ও পেশাদার পরিকল্পনায়। খুনের কাজে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটির বাজারমূল্যই ১০ লক্ষ টাকার বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। শার্প শ্যুটার ভাড়া করা থেকে শুরু করে এলাকা রেইকি করা, যাতায়াতের জন্য দামি গাড়ি ও বাইকের বন্দোবস্ত—সব মিলিয়ে খরচের অঙ্ক এক কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। তদন্তকারীদের প্রশ্ন, একজন আপ্তসহায়ককে সরাতে কেন এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ঢালা হলো এবং এই অর্থের উৎস আসলে কী?
গ্রেফতার ও ষড়যন্ত্রের জাল
এই ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই উত্তরপ্রদেশ ও বিহার থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের মধ্যে বালিয়ার বাসিন্দা রাজ সিং ওরফে চন্দন সিং একজন পেশাদার শার্প শ্যুটার হিসেবে পরিচিত। এছাড়া বিহারের মায়াঙ্ক রাজ মিশ্র ও ভিকি মৌর্যকেও জালে তোলা হয়েছে। গোয়েন্দাদের দাবি, এই অপরাধে সরাসরি ৮ থেকে ৯ জন জড়িত ছিল। মধ্যমগ্রাম থেকে পালানোর পথে স্থানীয় কেউ তাদের সাহায্য করেছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সিবিআই আধিকারিকরা মনে করছেন, ধৃতরা সুপারি কিলার মাত্র। তাদের পেছনে এমন কোনো শক্তিশালী মাথা রয়েছে, যে এই বিপুল অর্থের জোগান দিয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে সেই মূল ষড়যন্ত্রকারীর পরিচয় এবং হত্যার প্রকৃত উদ্দেশ্য উদঘাটন করাই এখন কেন্দ্রীয় সংস্থার প্রধান চ্যালেঞ্জ। দোহাড়িয়ার যে এলাকায় অপরাধটি ঘটেছে, বর্তমানে সেটি পুলিশি পাহাড়ায় মুড়ে রাখা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
