চব্বিশ ঘণ্টাতেই ফাটল নয়া তৃণমূল ব্লকে, বিধায়কদের বিদ্রোহে ব্যাকফুটে ঋতব্রত! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় নাটকীয়ভাবে ‘নয়া তৃণমূল ব্লক’ গঠনের চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই তীব্র রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছেন বিক্ষুব্ধ শিবিরের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। স্পিকারের কাছে ৫৯ জন বিধায়কের সই সংবলিত চিঠি জমা দিয়ে বিরোধী দলনেতার ভূমিকা নেওয়ার পরেই বুধবার রাত থেকে সমীকরণ বদলাতে শুরু করেছে। ঋতব্রতের শিবিরে থাকা একাধিক বিধায়ক এখন প্রকাশ্যে বিদ্রোহ ঘোষণা করে পুরোনো তৃণমূলে ফেরার তোড়জোড় শুরু করেছেন, যা এই নতুন রাজনৈতিক ফ্রন্টের স্থায়িত্বকেই বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
নেত্রী বনাম পরামর্শদাতা দ্বন্দ্ব
বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে সামনে এসেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলীয় পদের বিভ্রান্তি। বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁরা নতুন ব্লকের ‘প্রধান পরামর্শদাতা’ হিসেবে থাকার অনুরোধ জানাচ্ছেন। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে বিস্ফোরক দাবি করেছেন পাঁচলার বিধায়ক গুলশান মল্লিক। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, সই করার সময় তাঁদের জানানোই হয়নি যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেত্রী নন, বরং পরামর্শদাতা হবেন। দীর্ঘদিন যাঁর হাত ধরে রাজনীতি করেছেন, সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই সর্বোচ্চ নেত্রী মেনে তাঁরা সই করেছিলেন। ‘পরামর্শদাতা’র এই নতুন তত্ত্ব তাঁরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না।
নেতৃত্বের ধোঁয়াশা ও কালীঘাটে ফেরার হিড়িক
অনুরূপ সুর শোনা গেছে সিতাইয়ের বিধায়ক সঙ্গীতা বসুনিয়ার গলাতেও। তিনি সাফ জানিয়েছেন, তাঁর নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই আছেন; ঋতব্রতের নেতৃত্ব নিয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো উত্তর দিতে পারেননি। দল একক কোনো নেতার অধীনে নয়, বরং একটি ‘টিম’ হিসেবে কাজ করবে—ঋতব্রতের এমন দাবির সঙ্গে বিধায়কদের একাংশের এই অবস্থানের চরম অসঙ্গতি প্রকাশ পেয়েছে। এদিকে রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন, ইটাহারের বিধায়ক মোশারফ হোসেনের দাবি অনুযায়ী, বিক্ষুব্ধ শিবিরের বহু বিধায়ক ইতিমধ্যেই কলকাতার কালীঘাটে শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন এবং পুরোনো দলে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
পর্যাপ্ত সমন্বয়ের অভাব এবং দলনেত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাবমূর্তিকে খাটো করার জল্পনা তৈরি হওয়াতেই এই নয়া ব্লকে দ্রুত ভাঙন ধরছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিধানসভার এই অভ্যন্তরীণ চোরাস্রোত শেষ পর্যন্ত ঋতব্রতের নতুন রাজনৈতিক সমীকরণকে টিকিয়ে রাখতে দেয় নাকি তৃণমূলের মূল শিবিরেই এই বিধায়কদের প্রত্যাবর্তন ঘটায়, এখন সেটাই দেখার।
