চার তলার আগুন সরাসরি নয় তলায়! আলিপুরে ইভিএম ভস্মীভূত হওয়ার নেপথ্যে কি ষড়যন্ত্র? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আলিপুরে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের সদর দফতরে ঘটে যাওয়া বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্রমশ জোরালো হচ্ছে অন্তর্ঘাতের তত্ত্ব। চার ও পাঁচ তলায় লাগা আগুন মাঝের তিনতলা সম্পূর্ণ অক্ষত রেখে কীভাবে সরাসরি নয় এবং দশ তলায় পৌঁছে গেল তা নিয়ে গভীর বিস্ময় প্রকাশ করেছেন দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী। ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে ভবনের শীর্ষ তলায় মজুত রাখা ১০টি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রায় ৪ হাজার ইভিএম সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। প্রশাসনিক ভবনে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও জলের উৎসের অভাব থাকায় আগুন নেভাতেও প্রবল বেগ পেতে হয় দমকলকর্মীদের।
সিঁড়ি বেয়ে আগুনের বিস্তার ও ষড়যন্ত্রের সন্দেহ
তদন্তকারীদের সবচেয়ে বেশি ভাবিয়ে তুলেছে ছয়, সাত এবং আট তলার অক্ষত থাকার বিষয়টি। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, শুধুমাত্র সিঁড়ি বেয়েই আগুন ওপরের তলাগুলিতে ছড়িয়ে পড়েছিল। আগুনে মূলত পূর্ব দিকের ফ্লোরগুলি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পশ্চিম দিকে থাকা জেলাশাসকের দফতরটি সুরক্ষিত রয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে পুলিশ হেফাজতে থাকা দুই তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান ও শওকত মোল্লার দফতর। বর্তমানে এই দুই নেতার বিরুদ্ধেই তদন্ত চলায় ঘটনাটির নেপথ্যে কোনো তথ্যপ্রমাণ লোপাটের চেষ্টা রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে।
সন্দেহের তালিকায় দমকল আধিকারিকের ভূমিকা
তদন্তের খাতিরে ঘটনার দিন সকালে অফিস টাইমের আগে উপস্থিত চার কর্মীকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করলেও তাঁদের বয়ানে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক দমকল আধিকারিকের ভূমিকা ঘিরে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। চার ও পাঁচ তলার আগুন সম্পূর্ণভাবে খতিয়ে না দেখেই কেন তিনি তা নিয়ন্ত্রণে আসার কথা ঘোষণা করলেন এবং ঠিক তারপরেই কীভাবে আগুন দশ তলায় ছড়িয়ে পড়ল, তা নিয়ে সন্দিহান পুলিশ। অন্যদিকে, ভবনের ভেতরের মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে বৃহস্পতিবার ফরেন্সিক দল উপযুক্ত নমুনা সংগ্রহ করতে পারেনি। শুক্রবার পুনরায় ল্যাবরেটরি পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হবে এবং সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই প্রশাসন পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ ও জিজ্ঞাসাবাদ চালাবে।
