চার মাস পর খামেনেইর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া, তেহরানের ঘোষণার পরও কাটছে না মার্কিন হামলার চরম আতঙ্ক! – এবেলা

চার মাস পর খামেনেইর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া, তেহরানের ঘোষণার পরও কাটছে না মার্কিন হামলার চরম আতঙ্ক! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ইরানের প্রাক্তন সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর মৃত্যুর প্রায় চার মাস পর অবশেষে তাঁর শেষকৃত্যের দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে তেহরান। আগামী ৪ জুলাই থেকে খামেনেইর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ধর্মীয় প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং ৯ জুলাই মাশহাদ শহরে তাঁকে সমাহিত করা হবে। তবে প্রশাসনের এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরও দেশটিতে মার্কিন ও ইজরায়েলি হামলার তীব্র আশঙ্কা ও উত্তেজনা কোনোভাবেই কমছে না। দীর্ঘ ১০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে এই প্রভাবশালী নেতার মরদেহ সমাহিত না করতে পারার পেছনে মূল কারণ ছিল দেশটির অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাজনিত চরম উদ্বেগ।

নিরাপত্তার সংকট ও মরদেহের অবস্থান নিয়ে জল্পনা

ইরানি কর্তৃপক্ষের মতে, খামেনেইর শেষকৃত্য উপলক্ষে বড় ধরনের জনসমাবেশ আয়োজন করা বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এমন কোনো বড় জমায়েত হলে সেখানে আমেরিকা বা ইজরায়েল ড্রোন কিংবা বিমান হামলা চালাতে পারে, যার ফলে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে খামেনেইর মরদেহ কোথায় এবং কীভাবে রাখা হয়েছে, তা নিয়ে তেহরান কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখলেও আন্তর্জাতিক মহলে মরদেহের অবস্থা নিয়ে নানা জল্পনা ছড়িয়ে পড়েছে। তবে প্রশাসন আর দেরি করতে নারাজ হওয়ায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেই এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নেতৃত্বের সংকট ও সম্ভাব্য ভূরাজনৈতিক প্রভাব

এই বিলম্বের পেছনে আরেকটি বড় কারণ হলো ইরানের নয়া সুপ্রিম লিডার ও খামেনেইর পুত্র মোজতবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি একটি মার্কিন-ইজরায়েলি হামলায় মোজতবা গুরুতর আহত হন এবং তাঁর মুখ ও পায়ে প্রচণ্ড চোট লাগে বলে বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হয়। এরপর থেকে প্রাণভয়ে তিনি একবারও জনসমক্ষে আসেননি, এমনকি তাঁর বেঁচে থাকা নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। খামেনেইর শেষকৃত্যে মোজতবার উপস্থিতি বাধ্যতামূলক হলেও তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন তেহরানের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইজরায়েল ও আমেরিকার মধ্যকার সামরিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় ধরনের ক্ষমতার সংকট তৈরি হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *