চিকিৎসার নামে লুটপাট! ‘রোগী কতদিন আইসিইউতে থাকবেন?’ প্রথম দিনেই নারী চিকিৎসক চাকরি ছেড়ে ফাঁস করলেন হাসপাতালের অপকর্ম- এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
চণ্ডীগড়ের একটি নামী বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে চিকিৎসার নামে লুটপাটের অভিযোগ তুলে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন এক নারী চিকিৎসক। পেশাগত নৈতিকতা বজায় রাখতে কর্মজীবনের প্রথম দিনেই চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ডা. প্রভলীন কৌর। তার এই সাহসী পদক্ষেপ ভারতের স্বাস্থ্যসেবা খাতের একটি অন্ধকার দিককে জনসমক্ষে নিয়ে এসেছে।
অভিযোগের মূল বিষয় ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন
ডা. প্রভলীন কৌর একজন ফিজিশিয়ান হিসেবে চণ্ডীগড়ের ওই নামী হাসপাতালে যোগ দিয়েছিলেন। তার অভিযোগ অনুযায়ী, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীদের সেবার চেয়ে ব্যবসায়িক মুনাফাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছিল। তিনি দেখেন, হাসপাতালের মালিক নিজে একজন গাইনোকোলজিস্ট হওয়া সত্ত্বেও তিনি অন্য বিভাগের রোগীদের ভর্তি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছিলেন। চিকিৎসকের বদলে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা ঠিক করে দিচ্ছিল কোন রোগী কতক্ষণ আইসিইউ-তে (ICU) থাকবে।
অনৈতিক চাপের মুখে পদত্যাগ
ডা. প্রভলীন জানান, তার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল যেন রোগীদের দীর্ঘ সময় আইসিইউ-তে আটকে রাখা হয়। এই প্রক্রিয়ার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল চিকিৎসার বিল বাড়ানো। তিনি বলেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী একজন ফিজিশিয়ান ঠিক করবেন রোগীর আইসিইউ প্রয়োজন কি না। কিন্তু সেখানে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছিল এবং নথিপত্রে সই করার জন্য তাকে বাধ্য করার চেষ্টা করা হচ্ছিল। নিজের পেশাগত সততা জলাঞ্জলি না দিয়ে তিনি প্রথম দিনেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
ব্যবস্থার ত্রুটি ও নিরাপত্তার অভাব
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে এই ঘটনার সত্যতা প্রকাশ করেন ওই চিকিৎসক। হাসপাতালের নাম প্রকাশ না করার কারণ হিসেবে তিনি দেশের কঠিন বাস্তবতার কথা তুলে ধরেন। প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক মদদপুষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে লড়ার মতো আর্থিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতা তার নেই বলে তিনি জানান। তবে নাম গোপন রাখলেও তিনি এই অসাধু ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সরব থাকার অঙ্গীকার করেছেন।
মানবাধিকার কমিশনের প্রতিক্রিয়া ও সমর্থন
ডা. কৌরের এই সাহসিকতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন পাঞ্জাব স্টেট ও চণ্ডীগড় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য এবং পদ্মশ্রী পুরস্কারপ্রাপ্ত যতীন্দার সিং শান্টি। তিনি এই ঘটনাকে প্রাইভেট হাসপাতাল মাফিয়াদের স্বরূপ উন্মোচন বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, অনেক বেসরকারি হাসপাতাল বর্তমানে সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের বদলে ফাইভ স্টার হোটেলের মতো ব্যবসা কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে, যেখানে চিকিৎসকদের ওপর অন্যায্য টার্গেট চাপিয়ে দেওয়া হয়।
চিকিৎসক সমাজের প্রতি বার্তা
বর্তমানে জিরকপুরে নিজস্ব ক্লিনিক চালানো ডা. প্রভলীন অন্যান্য চিকিৎসকদের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা ব্যবস্থাপনার চাপে পড়ে নিজেদের নৈতিকতা বিসর্জন না দেন। তার মতে, হাতেগোনা কিছু মানুষের লোভের কারণে পুরো চিকিৎসক সমাজের সম্মান ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এই ঘটনার পর চণ্ডীগড়ের স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এক ঝলকে
- চণ্ডীগড়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে যোগদানের প্রথম দিনেই ইস্তফা দিলেন ডা. প্রভলীন কৌর।
- রোগীদের অহেতুক আইসিইউ-তে রেখে বিল বাড়ানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
- বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের বদলে হাসপাতাল মালিক ও ব্যবস্থাপনা বিভাগ চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নিচ্ছিল।
- নাম প্রকাশ না করলেও প্রভাবশালী হাসপাতাল মাফিয়াদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন এই চিকিৎসক।
- মানবাধিকার কমিশন এই সাহসী পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছে এবং বেসরকারি হাসপাতালের বাণিজ্যিক মানসিকতার সমালোচনা করেছে।
