‘চিন্ময় প্রভুর অবিলম্বে মুক্তি চাই!’ বাংলাদেশে মৌলবাদ নিয়ে কলকাতায় বসে ক্ষোভ উগরে দিলেন তসলিমা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিশেষ প্রতিবেদন: দেশ ছাড়তে বাধ্য হলেও মাতৃভূমির পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি বিশ্বখ্যাত লেখিকা তসলিমা নাসরিনের। বর্তমানে কলকাতায় অবস্থানরত এই লেখিকা রবিবারে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে সরব হয়েছেন। একই সঙ্গে কারাবন্দি হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
“অন্ধকার থেকে বেরোতে পারেনি বাংলাদেশ”
বাংলাদেশ থেকে দূরে থাকলেও দেশের বর্তমান হাল নিয়ে গভীর হতাশ প্রকাশ করেছেন তসলিমা। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, শাসনক্ষমতার পরিবর্তন হলেও বাংলাদেশে মৌলবাদের বাড়বাড়ন্ত কমেনি। ইউনুসের অন্তর্বর্তী জমানা থেকে শুরু করে তারেক রহমানের শাসনকাল—দেশ এখনও অন্ধকারেই নিমজ্জিত।
তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে আজও নারীরা স্বাধীনভাবে চলাচল করতে পারেন না, বাবার সম্পত্তিতে অধিকার পান না এবং সংখ্যালঘু হিন্দুরা চরম নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। বিশ্বের সমস্ত প্রগতিশীল মানুষের হয়ে চিন্ময় প্রভুর মুক্তির জোর দাবি জানান তিনি।
চিন্ময়কৃষ্ণ দাস ও বিতর্কিত গ্রেপ্তার
২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে যখন সংখ্যালঘুরা নিরাপত্তার সংকটে পড়েন, তখন সনাতন জাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র চিন্ময়কৃষ্ণ দাস আওয়াজ তুলেছিলেন। সেই বছর নভেম্বর মাসে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে জামিন না দিয়ে এবং নতুন নতুন মামলা চাপিয়ে তাঁকে বিনা বিচারে আটকে রাখা হয়েছে, যাকে আন্তর্জাতিক মহল ‘বিচারের নামে প্রহসন’ বলে মনে করছে।
ছাত্র আন্দোলন নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি
২০২৪-এর যে ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ক্ষমতার পরিবর্তন হয়েছিল, সেটি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তসলিমা। বাংলা অ্যাকাডেমির এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, “ছাত্র সমাজ আমাদের বোকা বানিয়েছিল। কোটা সংস্কারের কথা বলে তারা আন্দোলন শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত নিজেদের ঐক্য ধরে রাখতে পারেনি, পরবর্তীতে ভেঙে গেছে।”
