হাওড়ার অখ্যাত গলিতে জঙ্গি ডেরা! মুখ্যমন্ত্রীকে টার্গেট করতেই কি পিলখানায় গোপন কারখানা তৈরি করে হামিম? – এবেলা

হাওড়ার অখ্যাত গলিতে জঙ্গি ডেরা! মুখ্যমন্ত্রীকে টার্গেট করতেই কি পিলখানায় গোপন কারখানা তৈরি করে হামিম? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিশেষ প্রতিনিধি: রাজ্যে ফের বড়সড় জঙ্গি মডিউলের পর্দাফাঁস করল বেঙ্গল এসটিএফ (STF)। নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন ‘জইশ-ই-মহম্মদ’-এর সঙ্গে যুক্ত থাকা এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ওপর হামলার ছক কষার অভিযোগে বর্ধমান থেকে গ্রেফতার হওয়া জঙ্গি হামিম মণ্ডলের এবার হাওড়ার পিলখানায় এক গোপন ডেরার সন্ধান পেল পুলিশ।

হাওড়ার রহস্যময় কারখানা ও বাসিন্দাদের সন্দেহ

হাওড়ার গোলাবাড়ি থানার পিলখানা এলাকার ৭ নম্বর আলম মিস্ত্রি লেনে ৮-১০ মাস আগে একটি ঘর ভাড়া নিয়েছিল হামিম ও তার পরিবার। সেখানে প্রিন্টিং ও বারকোডের কাজের নাম করে ঢোকানো হয়েছিল ভারী সব মেশিনপত্র। স্থানীয়দের দাবি, ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই আচমকা কারখানাটি বন্ধ করে বর্ধমানের অভিজাত ‘রেনেসাঁ টাউনশিপে’ শিফট করে যায় হামিম। এক সাধারণ ভাড়াটে পরিবারের কীভাবে এত দ্রুত বিপুল আর্থিক উত্থান হলো, তা নিয়ে পিলখানার বাসিন্দাদের মধ্যে আগেই চরম সন্দেহ তৈরি হয়েছিল।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে টার্গেট?

তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর যে তথ্যটি পেয়েছেন, তা হলো ধৃত হামিমের কাছ থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সংক্রান্ত একাধিক স্পর্শকাতর নথি ও তাঁর গতিবিধি অনুসরণের প্রমাণ মিলেছে। গোয়েন্দাদের প্রাথমিক ধারণা, রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক পদাধিকারীর ওপর হামলার ছক কষতেই খবর সংগ্রহের কাজ করছিল সে।

পুলওয়ামা কানেকশন ও জইশ নেটওয়ার্ক

এসটিএফ সূত্রে জানা গেছে, কাশ্মীরের সাজ্জাদ ভাট গোষ্ঠীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ছিল এই হামিমের। উল্লেখ্য, সাজ্জাদ ভাট ছিল বিখ্যাত পুলওয়ামা হামলার অন্যতম মূল অভিযুক্ত। হামিমের মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করে তদন্তকারীরা এখন পুরো জঙ্গি নেটওয়ার্কের শিকড়ে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। তাকে বর্ধমান আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *