চীন সফর শেষেই ট্রাম্পের ভোলবদল! বললেন, ‘১৫ হাজার কিমি দূরে গিয়ে তাইওয়ানের জন্য যুদ্ধ করব না’ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দুই দিনের চীন সফর শেষেই তাইওয়ান ইস্যুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অবস্থানে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চীনের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাইওয়ানের স্বাধীনতার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৫ হাজার কিলোমিটার (৯,৫০০ মাইল) দূরে গিয়ে যুদ্ধে জড়াতে রাজি নয়। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি তাইওয়ানকে আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতার পথে হাঁটার ব্যাপারে সতর্ক করে বর্তমান পরিস্থিতি বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে বিশ্ব কূটনীতিতে এক বিরাট মোড় বদল হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাইডেন বা ট্রাম্পের নীতিতে বড় ধাক্কা
এতদিন ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ‘ওয়ান চায়না’ নীতিকে স্বীকৃতি দিলেও তাইওয়ানকে আত্মরক্ষার জন্য সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছিল। তবে ট্রাম্পের এই নতুন অবস্থান আমেরিকার পুরনো ‘কৌশলগত অস্পষ্টতা’ নীতিকে অনেকটাই শিথিল করে দিল। ট্রাম্প দাবি করেছেন, মার্কিন সামরিক সমর্থনের ভরসায় তাইওয়ানের নেতৃত্ব স্বাধীনতার দিকে পা বাড়াচ্ছে। অথচ চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের কাছে তাইওয়ান সবচেয়ে সংবেদনশীল ইস্যু। জিনপিং স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাইওয়ানের স্বাধীনতা এবং এই অঞ্চলের শান্তি কখনোই একসাথে চলতে পারে না।
বাণিজ্যিক চুক্তি ও ‘জি-২’ সমীকরণ
চীন সফরকে অত্যন্ত সফল দাবি করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠককে ‘জি-২’ বা বিশ্বের শীর্ষ দুই পরাশক্তির বৈঠক বলে আখ্যায়িত করেছেন। এই সফরের হাত ধরে চীনের সাথে আমেরিকার বড় ধরনের বাণিজ্যিক চুক্তিও সম্পন্ন হয়েছে। চীন মার্কিন সংস্থা বোয়িং থেকে ২০০টি বিমান কেনার চুক্তি করেছে এবং আরও ৭৫০টি বিমান কেনার আশ্বাস দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের মতে, ট্রাম্পের এই নরম সুর চীনের জন্য এক বিশাল কূটনৈতিক জয়, যা বৈশ্বিক রাজনীতিতে বেইজিংয়ের অবস্থানকে ওয়াশিংটনের সমকক্ষ করে তুলল।
এক ঝলকে
- দুই দিনের চীন সফর শেষে তাইওয়ানের স্বাধীনতার জন্য ১৫ হাজার কিলোমিটার দূরে গিয়ে যুদ্ধ লড়তে অস্বীকৃতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের।
- তাইওয়ানের নেতৃত্বকে উস্কানিমূলক পদক্ষেপ বা স্বাধীনতা ঘোষণা করা থেকে বিরত থাকার কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।
- এই ঐতিহাসিক চীন সফরকে ‘জি-২’ বৈঠক বলে উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প, যেখানে বোয়িং বিমানের বড় অর্ডারসহ একাধিক বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
- ওয়াশিংটন পোস্টের মতে, ট্রাম্পের এই নমনীয় অবস্থান বিশ্ব রাজনীতিতে বেইজিংয়ের জন্য এক বড় কূটনৈতিক সাফল্য।
