চুরির তালিকায় ত্রিপল, ফুটবলও! রাতারাতি গ্রেফতার তিন প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা – এবেলা

চুরির তালিকায় ত্রিপল, ফুটবলও! রাতারাতি গ্রেফতার তিন প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

আর্থিক দুর্নীতি, ত্রাণের সামগ্রী লোপাট থেকে শুরু করে তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট রাজ, শাসকদলের একঝাঁক নেতা ও জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে ওঠা গুচ্ছ গুচ্ছ অভিযোগে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। শনিবার রাত থেকে রবিবার সকালের মধ্যে পুলিশি অভিযানে পূর্ব বর্ধমান থেকে কলকাতার দক্ষিণ দমদম পর্যন্ত কার্যত তোলপাড় পড়ে গিয়েছে। পৃথক তিনটি ঘটনায় পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের এক জেলা সাধারণ সম্পাদক, এক প্রাক্তন বিধায়ক এবং এক বর্তমান পুর-কাউন্সিলর। আইন-শৃঙ্খলার কড়াকড়ি এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই আকস্মিক তৎপরতায় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

টাকা তছরুপ ও ত্রাণের সামগ্রী লোপাট

কাটমানি এবং ১০০ দিনের কাজের (এমজিএনআরইজিএ) টাকা তছরুপের অভিযোগে কাটোয়া থানার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক দিগন্ত পাল। জবকার্ডের নথিপত্র ব্যবহার করে ভুয়ো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলে মজুরির টাকা আত্মসাতের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ করেছে পুলিশ। এই জালিয়াতির ঘটনায় দায়ের হওয়া এফআইআর-এ নাম রয়েছে আরও বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার। অন্যদিকে, পূর্বস্থলী উত্তর কেন্দ্রের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে স্তূপীকৃত সরকারি ত্রিপল এবং প্রচুর ফুটবল। সরকারি সম্পত্তি ব্যক্তিগত হেফাজতে রাখার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মেলায় পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। এই সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের তীব্র ক্ষোভ ও স্লোগানের মুখে পড়তে হয় প্রাক্তন বিধায়ককে।

কলকাতায় সিন্ডিকেট ও তোলাবাজির থাবা

জেলাই শুধু নয়, খাস কলকাতার বুকেও থাবা বসিয়েছে পুলিশ। দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান তৃণমূল কাউন্সিলর মৃন্ময় দাসকে নাগেরবাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে এলাকায় সিন্ডিকেট রাজ চালানো, সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো, তোলাবাজি এবং মারধরের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জমা পড়েছিল। পুলিশি এই ধরপাকড়ের জেরে শাসকদলের অন্দরে যেমন অস্বস্তি বাড়ছে, তেমনই বিরোধী শিবিরও সুর চড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে। তবে জেলা নেতৃত্বের একাংশের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই সম্পূর্ণ সাজানো ঘটনার ভিত্তিতে এই গ্রেফতারি চালানো হচ্ছে।

তৎপরতার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

প্রশাসনের এই আকস্মিক ও কঠোর অবস্থানের নেপথ্যে রয়েছে সাধারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জমা পড়া ভুরি ভুরি লিখিত অভিযোগ। দুর্নীতি ও তোলাবাজির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ হাতে আসায় আইনি বাধ্যবাধকতা থেকেই পুলিশ এই অভিযান চালাতে বাধ্য হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই গণ-গ্রেফতারির ফলে জেলা থেকে শহর পর্যন্ত রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে। একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশাসনের প্রতি আস্থা ফেরার ইঙ্গিত মিলছে, অন্যদিকে শাসকদলের ভাবমূর্তি রক্ষায় শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর চাপ বহুগুণ বেড়ে গেল। তৃণমূলের অন্দরে সাংগঠনিক রদবদল এবং আইনগত লড়াইয়ের প্রস্তুতি এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *