চোখের সামনেই সব শেষ! মা-বাবার আর্তনাদ আর ১০ বছরের শিশুর বয়ান; জবলপুর ক্রুজ দুর্ঘটনায় তছনছ একটি পরিবার

চোখের সামনেই সব শেষ! মা-বাবার আর্তনাদ আর ১০ বছরের শিশুর বয়ান; জবলপুর ক্রুজ দুর্ঘটনায় তছনছ একটি পরিবার

মধ্যপ্রদেশের জব্বলপুরের বর্গী বাঁধে প্রমোদতরি ভ্রমণে মর্মান্তিক বিপর্যয়ে একটি পরিবারের সাজানো সংসার লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির কর্মী কামরাজ ও তাঁর পরিবার তামিলনাড়ু থেকে আসা আত্মীয়দের নিয়ে ঘুরতে বেরিয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎ আসা প্রবল ঝড়ের কবলে পড়ে তাঁদের বহনকারী ক্রুজটি ডুবতে শুরু করলে আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হয়। তীরের দাঁড়িয়ে থাকা কামরাজের বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়ি চোখের সামনে সন্তানদের ডুবে যেতে দেখলেও সাহায্য করার কোনো উপায় ছিল না।

চালকের পলায়ন ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ

বেঁচে ফেরা ১০ বছর বয়সী শিশু পুবিথরনের জবানবন্দিতে ফুটে উঠেছে সেই ভয়াবহ মুহূর্তের চিত্র। সে জানায়, ক্রুজটিতে জল যখন হাঁটু সমান হয়ে গিয়েছিল, তখন দায়িত্বরতরা লাইফ জ্যাকেট বিলি শুরু করে। ঠিক সেই সংকটকালীন মুহূর্তে আতঙ্কিত যাত্রীদের ফেলে রেখে নিজের প্রাণ বাঁচাতে জলে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যান ক্রুজের চালক। লাইফ জ্যাকেট পাওয়ায় কোনোমতে প্রাণে বাঁচে পুবিথরন ও তার বোন তামিলনিয়া, কিন্তু পরিবারের বাকি সদস্যরা তলিয়ে যান অতল জলে।

নিখোঁজ ও উদ্ধার অভিযান

এই দুর্ঘটনায় কামরাজের স্ত্রী ও শ্যালকের স্ত্রীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হলেও স্বয়ং কামরাজ, তাঁর ছোট ছেলে এবং শ্যালকের ছেলের এখনও কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। উদ্ধারকৃত মৃতদেহগুলো ইতিমধ্যেই আকাশপথে তামিলনাড়ুর তিরুচিরাপল্লীতে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। প্রশাসনের প্রাথমিক ধারণা, ঝড়ের পূর্বাভাস অবজ্ঞা করা এবং জরুরি মুহূর্তে চালকের পলায়ন এই মৃত্যুর মিছিলকে দীর্ঘতর করেছে।

এক ঝলকে

  • মধ্যপ্রদেশের জব্বলপুরের বর্গী বাঁধে প্রমোদতরি ডুবে তামিলনাড়ুর একই পরিবারের একাধিক সদস্যের মৃত্যু ও নিখোঁজ।
  • ঝড়ের সময় জল বাড়লে যাত্রীদের ফেলে রেখেই মাঝনদীতে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যান ক্রুজের চালক।
  • লাইফ জ্যাকেটের সাহায্যে পরিবারের দুই শিশু প্রাণে বাঁচলেও দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার হয়েছে এবং ৩ জন এখনও নিখোঁজ।
  • মৃতদেহগুলো বিশেষ বিমানযোগে জব্বলপুর থেকে তামিলনাড়ুতে তাঁদের পৈতৃক গ্রামে পাঠানো হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *