২৭০০ কোটির ব্যাঙ্ক জালিয়াতি: দুবাই থেকে ইন্টারপোলের জালে পলাতক কমলেশ পারেখ! নেপথ্যে বড় ‘কলকাতা কানেকশন’

সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE) থেকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হলো ২৭০০ কোটি টাকার ব্যাংক জালিয়াতি কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত কমলেশ পারেখকে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই (CBI) একটি আন্তর্জাতিক অভিযানের মাধ্যমে তাকে ভারতে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। ১ মে দিল্লিতে পৌঁছানোর পরপরই সিবিআইয়ের কলকাতা শাখা তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
কলকাতার যোগসূত্র ও জালিয়াতির বিস্তার
এই বিশাল আর্থিক কেলেঙ্কারির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কলকাতার সংস্থা ‘শ্রী গণেশ জুয়েলারি হাউস’। অভিযোগ, কমলেশ পারেখ এই সংস্থার অন্যান্য ডিরেক্টর ও প্রোমোটারদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ২৫টি ব্যাংকের একটি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে প্রায় ২৬৭২ কোটি টাকার প্রতারণা করেছেন। ভারতীয় স্টেট ব্যাংকের (SBI) নেতৃত্বাধীন এই কনসোর্টিয়াম থেকে ঋণ নিয়ে সেই অর্থ ব্যবসার নির্দিষ্ট কাজে ব্যবহার না করে অন্য খাতে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও প্রত্যাবর্তন
২০১৬ সালে সিবিআই এই জালিয়াতির মামলা দায়ের করার পর থেকেই পলাতক ছিলেন কমলেশ পারেখ। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে তার বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালে তার নামে ইন্টারপোলের ‘রেড কর্নার নোটিশ’ জারি করা হয়। শেষ পর্যন্ত বিদেশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সহযোগিতায় সংযুক্ত আরব আমিরশাহির কর্তৃপক্ষ তাকে আটক করে ভারতের হাতে তুলে দেয়।
তদন্ত ও বর্তমান পরিস্থিতি
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, কমলেশ পারেখ বিদেশের বিভিন্ন ভুয়া সংস্থা এবং ব্যবসায়িক লেনদেনের মাধ্যমে ব্যাংকের তহবিল তছরুপ করেছেন। মূলত দুবাইসহ বিভিন্ন স্থানে রফতানি বাণিজ্যের আড়ালে ব্যাংকিং চ্যানেলকে অপব্যবহার করে জালিয়াতির এই জাল বুনেছিলেন তিনি। বর্তমানে তাকে কলকাতায় এনে আরও জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া শুরু করছে তদন্তকারী সংস্থাটি।
এক ঝলকে
- কলকাতার ‘শ্রী গণেশ জুয়েলারি হাউস’ সংস্থাকে কেন্দ্র করে প্রায় ২৭০০ কোটি টাকার ব্যাংক জালিয়াতির অভিযোগ।
- মূল অভিযুক্ত কমলেশ পারেখকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে দিল্লিতে প্রত্যর্পণ করা হয়েছে।
- সিবিআই-এর কলকাতা শাখা (BSFB) আসামিকে হেফাজতে নিয়ে জেরা শুরু করেছে।
- ২০১৬ সালে মামলা দায়েরের পর দীর্ঘ ১০ বছর ধরে পলাতক থাকার পর তাকে জালে ধরা হলো।
