ছাদ ছাড়াই কমবে বিদ্যুৎ বিল! ঘরে আনুন ‘সোলার ট্রি’, মিলছে ৩০% সরকারি সাবসিডি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দেখতে ঠিক সাধারণ সবুজ গাছের মতো, কিন্তু কাজ করে একটি ছোটখাটো আধুনিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো! এর নাম ‘সোলার ট্রি’ (Solar Tree)। শহরের ছোট ফ্ল্যাট হোক কিংবা ছাদের জায়গার অভাব—বিদ্যুৎ বিল শূন্যে নামাতে এটিই এখন সবচেয়ে সেরা ও যুগান্তকারী সমাধান। খুব সামান্য জায়গাতেই এই প্রযুক্তির গাছ প্রচুর বিদ্যুৎ উৎপাদন করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিচ্ছে।
কীভাবে কাজ করে এই ‘বিদ্যুতের গাছ’?
সোলার ট্রির মূল গঠন একটি শক্তপোক্ত স্টিলের খুঁটির ওপর তৈরি। এর ডালপালায় বসানো থাকে একাধিক সোলার বা পিভি (PV) প্যানেল, যা ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরতে সক্ষম। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সূর্য যেদিকে থাকে, প্যানেলগুলোও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেদিকে ঘুরে যায়। ফলে সাধারণ সোলার প্যানেলের চেয়ে ১০-১৫% বেশি বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। দিনের আলোয় তৈরি ডিসি (DC) কারেন্ট ব্যাটারিতে জমা হয় এবং ইনভার্টারের সাহায্যে এসি (AC) কারেন্টে রূপান্তরিত হয়ে সোজা ঘরে সরবরাহ করা হয়।
সোলার ট্রির ৭টি তাক লাগানো সুবিধা:
১০০ গুণ কম জায়গা লাগে: যে পরিমাণ বিদ্যুৎ তৈরিতে সাধারণ সোলার প্যানেলের ৪০০ বর্গফুট জায়গা লাগে, সোলার ট্রি মাত্র ৪ বর্গফুট জায়গাতেই সেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে। শহরের ছোট ফ্ল্যাট বা ছোট ছাদের জন্য এটি আদর্শ।
২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ: দিনে তৈরি হওয়া বিদ্যুৎ উন্নত লিথিয়াম ব্যাটারিতে জমা থাকে। ফলে রাতে, মেঘলা দিনে বা লোডশেডিংয়ের সময়ও ঘরে বিদ্যুৎ পরিষেবা সচল থাকে।
স্মার্ট অটো-ট্র্যাকিং ও নিজে পরিষ্কার হওয়ার ক্ষমতা: এটি সূর্যের আলো অনুসরণ করার পাশাপাশি বৃষ্টির জলে প্যানেলের ধুলোবালি নিজেই পরিষ্কার করে নেয়। আলাদা করে মেছামুছির ঝামেলা নেই।
মাল্টিফাংশনাল অল-ইন-ওয়ান সুবিধা: এই গাছের নিচে বসার বেঞ্চ, এলইডি স্ট্রিট লাইট, ৪টি ইউএসবি চার্জিং পোর্ট, ওয়াইফাই হটস্পট এমনকি সিসিটিভি ক্যামেরাও লাগানো সম্ভব।
পরিবেশবান্ধব ও দীর্ঘস্থায়ী: কোনো পরিবেশ দূষণ হয় না। একবার বসালে একটানা ২৫ বছর সার্ভিস পাওয়া যায়। বছরে মাত্র দু’বার সার্ভিসিং করালেই এটি নিশ্চিন্তে চলে।
ঝড়-বৃষ্টিতেও ১০০% সুরক্ষিত: ঘণ্টায় ১০০ কিমি বেগের ঝড় সহ্য করতে পারে। জংরোধী গ্যালভানাইজড স্টিল দিয়ে তৈরি হওয়ায় জল বা বন্যায় এটি নষ্ট হয় না।
৩০% পর্যন্ত সরকারি সাবসিডি: কেন্দ্রীয় সরকারের MNRE গ্রিন এনার্জি প্রকল্পের অধীনে এতে ৩০% পর্যন্ত ভর্তুকি পাওয়া যাচ্ছে। রাজ্য সরকারের তরফ থেকেও সহজ ঋণের ব্যবস্থা রয়েছে।
খরচ ও কত দিনে উঠবে আসল টাকা?
একটি ৫ কিলোওয়াট (5KW) সোলার ট্রির সাধারণ দাম ৫.৫ থেকে ৭ লক্ষ টাকা। তবে সরকারি সাবসিডি বাদ দিলে এর কার্যকর খরচ দাঁড়ায় ৩.৮ থেকে ৪.৯ লক্ষ টাকা।
স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, অফিস, পেট্রোল পাম্প, পার্ক, কারখানা বা আবাসন সমবায়গুলোতে এটি খুব সহজে বসানো যায়। প্রতি মাসে ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ টাকা বিল সাশ্রয় হলে ৪ থেকে ৫ বছরের মধ্যেই আপনার মূল খরচ উঠে আসবে। এরপর বাকি ২০ বছর কার্যত নিখরচায় বিদ্যুৎ উপভোগ করা যাবে!
ভারতে সোলার ট্রির প্রভাব:
দুর্গাপুরের CSIR-CMERI প্রথম এটি উদ্ভাবন করলেও বর্তমানে কলকাতার ইকো পার্ক, নিউটাউন, দিল্লির ইন্ডিয়া গেট এবং গুজরাটের স্মার্ট সিটিগুলোতে এটি সফলভাবে চলছে। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতেও সোলার ট্রির পাইলট প্রজেক্ট শুরু হয়েছে।
যাদের পর্যাপ্ত জমি বা বিশাল ছাদ নেই, কিন্তু সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করে খরচে লাগাম টানতে চান—তাদের জন্য সোলার ট্রি এক কথায় অনবদ্য। গাছ না কেটে, গাছ আকৃতির এই আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে নিজের ঘরের আলো জ্বালান এবং প্রকৃতিকে সুন্দর রাখুন!
