ছেঁড়া বা নোংরা নোট নিয়ে আর চিন্তা নেই, বদলানোর সহজ নিয়ম জানাল আরবিআই! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মানিব্যাগে হঠাৎ একটি ছেঁড়া ১০০ বা সামান্য ড্যামেজ হওয়া ৫০০ টাকার নোট পেয়ে অনেকেই চিন্তায় পড়ে যান। কেউ দ্রুত সেই নোট অন্য কোথাও খরচ করার চেষ্টা করেন, আবার কেউ মনে করেন নোটটির হয়তো আর কোনও মূল্যই নেই। তবে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের (আরবিআই) নিয়ম বলছে সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা। আরবিআই-র ব্যাঙ্কনোট বিনিময় সংক্রান্ত সর্বশেষ নির্দেশিকা অনুযায়ী, ময়লা বা স্বাভাবিক ব্যবহারে ক্ষয়প্রাপ্ত এবং আংশিক ছেঁড়া নোটও বৈধ মুদ্রা হিসেবে গণ্য হবে। এর জন্য গ্রাহকদের সরাসরি আরবিআই অফিসে যাওয়ারও প্রয়োজন নেই; দেশের সমস্ত বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কের শাখাকে কর্মদিবসে এই ধরনের নোট গ্রহণ ও বিনিময়ের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত নোটের শ্রেণিবিভাগ ও মূল্যায়নের শর্ত
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক মূলত ক্ষতিগ্রস্ত নোটকে তিনটি ভাগে ভাগ করেছে। প্রথমত, দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে নোংরা বা সামান্য ছিঁড়ে যাওয়া এবং জোড়া লাগানো নোট। এই শ্রেণির নোংরা নোটের ক্ষেত্রে কোনও মূল্য কাটা হয় না, অর্থাৎ গ্রাহক পুরো টাকাই ফেরত পাবেন। দ্বিতীয়ত, আংশিক ছেঁড়া নোট; যে নোটের কিছু অংশ হারিয়ে গেছে কিন্তু নম্বর ও নিরাপত্তা চিহ্ন অক্ষত আছে। এই নোটের ক্ষেত্রে অক্ষত অংশ ৮০ শতাংশের বেশি হলে পূর্ণ মূল্য এবং ৪০ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে হলে অর্ধেক মূল্য পাওয়া যাবে। তবে অক্ষত অংশ ৪০ শতাংশের কম হলে কোনও টাকা মিলবে না। তৃতীয় শ্রেণিতে রয়েছে আগুনে পুড়ে যাওয়া বা মারাত্মকভাবে নষ্ট হওয়া নোট, যা সাধারণ ব্যাঙ্কে বদলানো যায় না। এগুলি বিশেষ পরীক্ষার জন্য আরবিআই-র ইস্যু অফিসে পাঠাতে হয়।
বিনিময়ের সীমা ও ব্যাঙ্ক অস্বীকার করলে আইনি প্রতিকার
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, একজন গ্রাহক ব্যাঙ্ক কাউন্টারে একদিনে সর্বোচ্চ ২০টি নোট বা মোট ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত ময়লা নোট সরাসরি বিনিময় করতে পারবেন। এর বেশি হলে ব্যাঙ্ক রসিদ দিয়ে পরবর্তীতে গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা করতে পারে। অন্যদিকে, আংশিক ছেঁড়া নোটের ক্ষেত্রে একটি শাখা সাধারণত ১০টি নোট পর্যন্ত প্রক্রিয়া করতে সক্ষম। এই নিয়মের ফলে বাজারে ছেঁড়া নোট সংক্রান্ত বিভ্রান্তি ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। আরবিআই স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনো ব্যাঙ্ক উপযুক্ত কারণ ছাড়া এই নোট নিতে অস্বীকার করতে পারে না। যদি কোনও শাখা নিয়ম অমান্য করে, তবে গ্রাহকরা সরাসরি আরবিআই সিএমএস (CMS) পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন।
