ছেলের বউয়ের নির্যাতনে স্বামীর রহস্যমৃত্যু! তড়িঘড়ি দাহ, তদন্তে ফরেনসিক – এবেলা

ছেলের বউয়ের নির্যাতনে স্বামীর রহস্যমৃত্যু! তড়িঘড়ি দাহ, তদন্তে ফরেনসিক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কলকাতা: তড়িঘড়ি শবদাহ করে কি খুনের প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করা হলো? ছেলের বউয়ের চরম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কারণেই কি অকালে চলে যেতে হলো ছেলেকে? এই মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে এবার সিঁথি থানার দ্বারস্থ হলেন এক অসহায় বাবা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিলত্তমা কলকাতায় দানা বেঁধেছে তীব্র রহস্য। ঘটনার আসল কারণ উদ্ঘাটন করতে ইতিমধ্যেই কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে পুলিশ ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দল।

না জানিয়েই শেষকৃত্য, ঘনীভূত রহস্য:

অভিযোগকারী কমল কুমার চক্রবর্তী জানান, তাঁর ৪৩ বছর বয়সী ছেলে শুভাশিস চক্রবর্তী গত সাত বছর ধরে স্ত্রী দেবিকা সাহার সঙ্গে সিঁথির সাত্রা পাড়া লেনে শ্বশুরবাড়িতেই থাকতেন। পেশায় ওষুধ সংস্থার প্রাক্তন কর্মী শুভাশিসের মৃত্যুর খবর হঠাৎই গতকাল তাঁর স্ত্রী বাপের বাড়িতে জানান। কিন্তু তার চেয়েও বড় ধাক্কা ছিল, কমলবাবু জানতে পারেন গতকাল রাতেই কলকাতার রতনবাবু ঘাটে শুভাশিসের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়ে গেছে! পরিবারের কাউকে না জানিয়ে এত তাড়াহুড়ো করে কেন দাহ করা হলো, তা নিয়েই তীব্র সন্দেহ প্রকাশ করেছেন মৃত যুবকের বাবা। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, ছেলেকে নির্যাতন করে খুন করা হয়েছে।

চিকিৎসকের পরামর্শ উপেক্ষা ও রহস্যময় দাহ:

পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, ২০২১ সালে চাকরি হারানোর পর থেকেই শুভাশিস মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন এবং একটি জটিল স্নায়বিক রোগের কারণে নিজেই ডাক্তারি প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ খেতেন। গত ৯ জুন তাঁর শারীরিক অবস্থা চরম আশঙ্কাজনক হলে এক ডাক্তারকে ডাকা হয়। চিকিৎসক জানান, শুভাশিসের রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে এবং তাঁকে অবিলম্বে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। কিন্তু সেই পরামর্শ উপেক্ষা করা হয়। পরদিন ১০ জুন দুপুরে শুভাশিসকে মৃত বলে ঘোষণা করেন ওই চিকিৎসক। ডেথ সার্টিফিকেট মিলতেই স্থানীয় একটি ওষুধের দোকানের সাহায্যে তড়িঘড়ি শববাহী গাড়ি ডেকে দেহ দাহ করে দেওয়া হয়। বাবার দাবি, অপরাধ ঢাকতেই এই লুকোছাপা।

তদন্তে ফরেনসিক টিম:

বাবার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সিঁথি থানা ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ১০৩(১) এবং ২৩৮(এ) ধারায় মামলা রুজু করেছে। দেহ আগেই পুড়িয়ে ফেলায় ময়নাতদন্তের সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে পুলিশের। তাই মৃত্যুর আসল কারণ জানতে ওই ঘরের ভেতর কোনো ধস্তাধস্তি বা বিষক্রিয়ার প্রমাণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে শুভাশিসের ঘরে হানা দিয়েছে ফরেনসিক দল। সেখান থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এটি স্বাভাবিক অসুস্থতাজনিত মৃত্যু নাকি এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে কোনো ঠাণ্ডা মাথার খুন— তা জানতে প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় ওষুধের দোকানদারদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *