জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে ভারতীয় হাইকমিশনের বার্তা, কূটনৈতিক সম্পর্কে নয়া সমীকরণ – এবেলা

জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে ভারতীয় হাইকমিশনের বার্তা, কূটনৈতিক সম্পর্কে নয়া সমীকরণ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি তথা বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী ঘিরে দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে এক সেনাবিক্ষোভের মুখে জিয়াউর রহমান নিহত হন। প্রতিবছরের মতো এবারও বিএনপি এবং বাংলাদেশ সরকার দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দিনটি পালন করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর পিতার মৃত্যুবার্ষিকীতে বিশেষ প্রার্থনা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে অংশ নেন। তবে এবারের এই দিনটি বিশেষ তাৎপর্য লাভ করেছে ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনের একটি আকস্মিক ও ঐতিহাসিক বার্তাকে কেন্দ্র করে।

স্বাধীনতার ঘোষণা বিতর্ক ও ঐতিহাসিক বার্তা

অতীতে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুদিনে ভারতের পক্ষ থেকে এই ধরনের স্মৃতিচারণার কোনো দৃষ্টান্ত ছিল না। এবারই প্রথম ভারতীয় হাইকমিশন তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে জিয়াউর রহমানের দেওয়া ভাষণের ভূয়সী প্রশংসা করেছে। বার্তায় বলা হয়, ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে তাঁর সেই ঐতিহাসিক বেতার ভাষণ জনসাধারণকে উদ্দীপ্ত করেছিল এবং জাতীয় মুক্তির সংগ্রামকে এগিয়ে নিয়েছিল। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ ত্যাগের গৌরবগাথার কথা উল্লেখ করে ভারত আগামীতেও এ দেশের মানুষের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ১৯৭১ সালের ২৫ ও ২৬ মার্চ স্বাধীনতার মূল ঘোষক কে ছিলেন, তা নিয়ে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। আওয়ামী লীগসহ একাংশের দাবি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই স্বাধীনতার প্রকৃত ঘোষক, যার বার্তা ২৫ মার্চ রাতেই ছড়িয়ে পড়েছিল। অন্যদিকে বিএনপি দাবি করে আসছে, মেজর জিয়াউর রহমানই স্বাধীনতার মূল ঘোষণা দিয়েছিলেন। ভারতীয় হাইকমিশন তাদের বার্তায় সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ উল্লেখ না করলেও, জিয়াউর রহমানের ভাষণের ঐতিহাসিক গুরুত্বকে যেভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে, তা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ চমক সৃষ্টি করেছে।

রাজনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ ইঙ্গিত

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের এই বার্তা বাংলাদেশের ঘরোয়া রাজনীতিতে একটি বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে স্বাধীনতার ঘোষক বিতর্ক নিয়ে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক টানাপোড়েনে এই বার্তা বিএনপির অবস্থানকে আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিকভাবে অনেকটা শক্তিশালী করল। একই সঙ্গে এই ঘটনাটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দিল্লির দক্ষিণ এশিয়া নীতি এবং বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে এক ধরনের কৌশলগত পুনর্বিন্যাস বা নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, যা আগামী দিনে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *