‘জোর করে পুজো দখল চলবে না!’, কলেজ স্কোয়ার থেকে কাকে কড়া বার্তা শমীকের? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দুর্গাপুজো মানেই বাঙালির আবেগ, আর সেই আবেগের রাশ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে রাজনীতির ময়দান সবসময়ই সরগরম। এবার পুজো কমিটিগুলোতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং ‘পুজো দখল’-এর প্রবণতার বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় সরব হলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। বৃহস্পতিবার কলকাতার ঐতিহ্যবাহী কলেজ স্কোয়ারের খুঁটিপুজোয় অংশ নিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, রাজনৈতিক দাপট দেখিয়ে দুর্গাপুজো দখল করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্যের মূল বিষয়গুলো একনজরে:
- ‘জোর করে পুজো দখল নয়’: তিনি জানান, প্রথা ও রীতিনীতিই পুজোর আসল ভিত্তি। থিমের জাঁকজমক যতই থাকুক, মণ্ডপে কলাবউ স্নান না হলে সেই পুজোর কোনো আবেদন থাকে না। জোর করে পুজো দখল করা সম্পূর্ণ অনুচিত।
- ‘আমাকে কোনো পদে রাখবেন না’: পুজোকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখার আহ্বান জানিয়ে শমীক বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এলে পুজোর প্রাসঙ্গিকতা হয়তো বাড়ে, কিন্তু তিনি না এলেও ভক্তি দিয়েই পুজো চলবে।” উদ্যোক্তাদের কাছে তাঁর বিশেষ অনুরোধ, তাঁকে যেন পুজোর কোনো পদে রাখা না হয়। পদে থাকলে তিনি এই নিরপেক্ষ বার্তাটি আজ দিতে পারতেন না।
- বিধায়কদের ভূমিকা: দলের বিধায়করা চাইলে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় তাঁদের বিধানসভা এলাকার পুজো কমিটির অংশ হতে পারেন। কিন্তু এর জন্য কোনো পুজো কমিটিকে যেন রাজনৈতিক চাপের কাছে নতিস্বীকার করতে না হয়।
- ঐতিহ্য বনাম আধুনিকতা: কলেজ স্কোয়ারের মতো ঐতিহ্যবাহী পুজোর সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তিনি। তিনি মনে করিয়ে দেন, শুধুমাত্র থিম আর জাঁকজমক দিয়ে পুজো হয় না, ঐতিহ্য ও রীতিনীতিকে বিসর্জন দেওয়া কোনোমতেই কাম্য নয়।
নির্বিঘ্ন পুজোর আশা মুর্শিদাবাদের হরগোবিন্দ দাসের প্রসঙ্গ তুলে শমীক ভট্টাচার্য আশা প্রকাশ করেন যে, এবছর রাজ্যে দুর্গাপুজো সম্পূর্ণ নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন হবে। পাশাপাশি, কোনো বিধায়কের বিরুদ্ধে জোরজুলুমের অভিযোগ থাকলে তা সরাসরি তাঁকে জানানোর জন্য পুজো উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। উৎসবের মরশুম শুরুর আগেই শমীকের এই কড়া অবস্থান রাজ্য রাজনীতিতে নতুন চর্চার জন্ম দিল।
