জ্বলছে নয়ডা, ঘুম ভাঙল কি পুলিশের? ৫ দিনের বিক্ষোভে প্রশাসনের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন!
অস্থির নয়ডা: শ্রমিক আন্দোলনের দাবানল ও প্রশাসনের ব্যর্থতা নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন
টানা পাঁচ দিন টানা উত্তপ্ত হয়ে রইল উত্তরপ্রদেশের হাই-টেক সিটি নয়ডা। বেতন বৃদ্ধি ও কর্মক্ষেত্রে সুযোগ-সুবিধার দাবিতে শুরু হওয়া শ্রমিক আন্দোলন সোমবার ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। শিল্পাঞ্চলে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দিশেহারা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। যদিও রাজ্য সরকার তড়িঘড়ি ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে, কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই অস্থিরতার পেছনের কারণ এবং প্রশাসনের ভূমিকা এখন বড় বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে।
প্রশাসনের নীরবতা ও পুলিশের ভূমিকা
গত ৯ এপ্রিল থেকে নয়ডার বিভিন্ন কারখানার সামনে শ্রমিক বিক্ষোভ শুরু হলেও, প্রশাসন এই বিষয়টিকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি বলে অভিযোগ। ১০ এপ্রিল পরিস্থিতির আঁচ পেয়ে কেবল ট্র্যাফিক ডাইভারশনের মতো সাধারণ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। কিন্তু শিল্পাঞ্চলগুলোতে পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে সোমবার যখন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের ঢল নামে, তখন নামমাত্র পুলিশ বাহিনী পরিস্থিতি সামাল দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। আগাম তথ্য থাকা সত্ত্বেও পুলিশের এই নিষ্ক্রিয়তা এখন পেশাদারিত্বের অভাব হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।
গোয়েন্দা ব্যর্থতা ও রণকৌশল নিয়ে বিতর্ক
এই হিংসাত্মক ঘটনার পেছনে স্থানীয় গোয়েন্দা বিভাগ বা লোকাল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (LIU) বড় ধরণের ব্যর্থতা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রশ্ন উঠছে, আন্দোলনের রূপরেখা ও এর তীব্রতা সম্পর্কে গোয়েন্দারা কি সঠিক তথ্য উপরমহলের কাছে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছিলেন? নাকি রিপোর্ট দেওয়ার পরেও শীর্ষ কর্মকর্তারা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে গড়িমসি করেছেন? বিশেষ করে ১৩ এপ্রিল সেক্টর ৫৯, ৬২, ৬৩ এবং ফেজ-২ এলাকায় যে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে, তা প্রশাসনের চরম উদাসীনতারই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।
সরকারি ঘোষণা ও উত্তপ্ত পরিস্থিতি
পরিস্থিতির ভয়াবহতা অনুধাবন করে সোমবারই রাজ্য সরকার শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, এই নতুন কাঠামো ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। সরকার একে সাময়িক সমাধান হিসেবে দেখলেও, দীর্ঘমেয়াদী দাবিনামা পূরণের লক্ষ্যে ওয়েজ বোর্ড গঠনের আশ্বাস দিয়েছে। সরকারি ঘোষণার পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও এখনও নয়ডার বিভিন্ন এলাকায় চাপা উত্তেজনা বজায় রয়েছে। হিংসার ঘটনায় এ পর্যন্ত ৭টি মামলা রুজু হয়েছে এবং বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ।
এক ঝলকে
- বিক্ষোভের স্থায়িত্ব: ৫ দিন ধরে লাগাতার আন্দোলন ও সোমবার ব্যাপক ভাঙচুর।
- ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ: ৮০টির বেশি কারখানায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
- আইনশৃঙ্খলা: ৩ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ ছিল নয়ডার প্রধান সড়ক; এ পর্যন্ত ৭টি মামলা রুজু হয়েছে।
- সরকারি পদক্ষেপ: শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।
- কার্যকর সময়কাল: নতুন এই মজুরি কাঠামো ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।
