টলিউডে দুর্নীতির আঁচ, এবার ভাঙনের মুখে স্বরূপ ও জুঁইয়ের হাইপ্রোফাইল দাম্পত্য – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
টলিউডজুড়ে যখন একের পর এক দুর্নীতির খবর এবং প্রভাবশালী যোগসূত্র নিয়ে তোলপাড় চলছে, ঠিক তখনই বিশ্বাস পরিবারের এক বড় ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে এল। গত কয়েক বছর ধরে টলিপাড়ায় যে গুঞ্জন ঘুরপাক খাচ্ছিল, তাতে কার্যত সিলমোহর দিয়ে স্বামী স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে পাকাপাকিভাবে আইনি বিচ্ছেদের পথে হাঁটছেন দক্ষিণ কলকাতার দাপুটে তৃণমূল কাউন্সিলর জুঁই বিশ্বাস। দীর্ঘদিনের দাম্পত্য জীবনে এই চরম সিদ্ধান্ত কোনো আকস্মিক পদক্ষেপ নয়, বরং দীর্ঘ পারস্পরিক দূরত্বেরই এক আইনি পরিণতি।
দীর্ঘদিনের দূরত্ব ও আইনি প্রক্রিয়া
এই হাইপ্রোফাইল দম্পতির বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত হঠাৎ করে নেওয়া হয়নি। ২০১৯ সাল থেকেই তাঁরা পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সম্পূর্ণ আলাদা থাকছিলেন। দীর্ঘ সাত বছর আলাদা থাকার পর অবশেষে এই অধ্যায়ের আইনি সমাপ্তি ঘটতে চলেছে। বিগত তিন মাস আগে থেকেই তাঁদের আইনি বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। স্বরূপ ও জুঁইয়ের দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তবে ডিভোর্সের পর মেয়েরা কার হেফাজতে থাকবে, সে বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকায় জুঁই বিশ্বাস আপাতত কিছু জানাতে চাননি।
বিতর্কের ছায়া ও রাজনৈতিক প্রভাব
রাজনৈতিক ও গ্ল্যামার জগতের অন্যতম পরিচিত এই দম্পতির বিচ্ছেদের নেপথ্যে দীর্ঘদিনের পারিবারিক দূরত্বের কথা বলা হলেও, সাম্প্রতিক কিছু বিতর্ক এই ঘটনাকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। কলকাতায় ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির আগমন এবং যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে তৈরি হওয়া নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা কাণ্ডে জুঁই বিশ্বাসের নাম জড়িয়েছিল। প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের পাশাপাশি জুঁইয়ের বিরুদ্ধেও এফআইআর (FIR) দায়ের করেছিলেন ‘মেসি গোট টুর’-এর মূল আয়োজক। একদিকে রাজনৈতিক ও আইনি চাপ, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের পারিবারিক দূরত্ব— সব মিলিয়ে এই বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত বিশ্বাস পরিবারের পাশাপাশি কলকাতার রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
