টলিপাড়ায় নতুন সমীকরণ, শমীক-রূপার প্রশংসায় পঞ্চমুখ পিঙ্কি কি এবার রাজনীতির ময়দানে! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বঙ্গে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকেই বিনোদন জগতের সমীকরণে এক বিরাট ওলটপালট লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রাক্তন সরকারের ছায়া থেকে বেরিয়ে এসে টলিপাড়ার শিল্পীদের একাংশ এখন নতুন সরকারের প্রশংসায় মুখর। এই আবহে বিনোদন দুনিয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক অলিন্দেও জোর চর্চা শুরু হয়েছে অভিনেত্রী পিঙ্কি বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সমাজমাধ্যমে ক্রমাগত রাজ্য সরকারের নানা উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ান পোস্ট করে চলেছেন তিনি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি এবার পদ্ম শিবিরের হাত ধরে সরাসরি সক্রিয় রাজনীতিতে পা রাখছেন কাঞ্চন মল্লিকের প্রাক্তন স্ত্রী?
নেপথ্যের কারণ ও শমীকের বাগ্মিতায় মুগ্ধতা
রাজনীতির জটিল মারপ্যাঁচ বোঝেন না দাবি করলেও, নতুন জমানার বেশ কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের কাজে যে পিঙ্কি মুগ্ধ, তা ওঁর কথাতেই পরিষ্কার। বিশেষ করে বিজেপির প্রবীণ নেতা শমীক ভট্টাচার্যের প্রশংসায় পঞ্চমুখ অভিনেত্রী। শমীকবাবুর শব্দচয়ন ও বাগ্মিতার জাদু তাঁকে গভীরভাবে টেনোছে। সম্প্রতি উচ্চ মাধ্যমিকের কৃতী ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া নেতার বক্তব্য এক মুহূর্তের জন্যও ফোন স্ক্রল না করে পুরোটা শুনেছেন পিঙ্কি। নতুন সরকারের হাত ধরে শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হবে বলেও তিনি আশাবাদী।
পাশাপাশি সোনারপুরের বিধায়ক রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের কাজেরও প্রশংসা করেছেন পিঙ্কি। তীব্র গরমের মধ্যেও এলাকায় তৎপরতার সঙ্গে রাস্তা তৈরির কাজে রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের সক্রিয় ভূমিকাকে সমাজমাধ্যমে সাধুবাদ জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, বিগত সরকারের আমলে টলিপাড়ার অন্দরে ক্ষমতার দাপট, কাজ না পাওয়া কিংবা অলিখিত নিষেধাজ্ঞার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, তা নিয়েও নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অভিনেত্রী। ইন্ডাস্ট্রির চেনা সমীকরণে তাঁকে অনেক কিছু সহ্য করতে হয়েছে জানিয়ে পিঙ্কি বলেন, নিরপেক্ষ মানুষেরা এবার স্বাধীনভাবে নিঃশ্বাস ফেলতে পারছেন।
ভবিষ্যতের রাজনৈতিক প্রভাব ও সম্ভাবনা
পিঙ্কির প্রাক্তন স্বামী কাঞ্চন মল্লিক প্রাক্তন সরকারের বিধায়ক হলেও তাঁকে নিয়ে এখন আর কোনো মন্তব্য করতে চান না অভিনেত্রী। তবে তাঁর বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জল্পনা প্রসঙ্গে সমস্ত সম্ভাবনা এক ফুঁয়ে উড়িয়ে দেননি তিনি। মানুষের জীবন অনিশ্চিত উল্লেখ করে পিঙ্কি জানিয়েছেন, এখনই ওঁর সক্রিয় রাজনীতিতে আসার তেমন কোনো পরিকল্পনা নেই, কারণ তিনি নিজেকে মূলত একজন শিল্পী হিসেবেই দেখেন।
বিশ্লেষকদের মতে, পিঙ্কির মতো পরিচিত মুখেরা যেভাবে সরাসরি নতুন সরকারের কাজের প্রশংসা করছেন এবং বিগত জমানার টলিপাড়ার সংস্কৃতির সমালোচনা করছেন, তা রাজ্যের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। সক্রিয় রাজনীতিতে এখনই না নামলেও, তাঁর এই অবস্থান টলিপাড়ায় ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। নতুন সরকার রাজ্যকে নিয়ে যা যা ভাবছে, তা নিয়ে পিঙ্কি অত্যন্ত আশাবাদী হলেও এখনই অতি-আশাবাদী হয়ে পরে আশাহত হতে চান না, বরং সবটা বদলে যাওয়ার জন্য সময় দিতে প্রস্তুত তিনি।
