টিএমসিতে বিরাট ভাঙন? মমতা ব্যানার্জির এক সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ মহিলা সাংসদেরা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বড়সড় ধাক্কা খাওয়ার পর এবার তীব্র অভ্যন্তরীণ কোন্দলের মুখে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি)। দলীয় প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক একটি সিদ্ধান্তের কারণে দলের সাংসদদের একটি বড় অংশ ক্ষুব্ধ বলে জানা গেছে। লোকসভায় দলের বর্ষীয়ান ও বিতর্কিত সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুনরায় ‘চিফ হুইপ’ বা মুখ্য সचेतक পদে ফিরিয়ে আনার পর থেকেই এই অসন্তোষের সূত্রপাত। এর আগে এই দায়িত্বে থাকা কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে সরিয়ে দেওয়ায় দলের অভ্যন্তরে, বিশেষ করে মহিলা সাংসদদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, দলটির সংসদীয় গ্রুপে বড়সড় ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মহিলা সাংসদদের ক্ষোভ এবং কল্যাণের অতীত বিতর্ক
লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের মোট ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ১১ জনই নারী। দলীয় সূত্রে খবর, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অতীত আচরণ নিয়ে এই মহিলা সাংসদদের একটি বড় অংশের মধ্যে তীব্র আপত্তি রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিকবার সহকর্মী মহিলা সাংসদদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। গত বছর তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের সঙ্গে তাঁর প্রকাশ্য বিবাদ ও বাকবিতণ্ডা চরম রূপ ধারণ করেছিল। সেই সময় উদ্ভূত পরিস্থিতির জেরে গত আগস্টে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখ্য সচেতকের পদ থেকে ইস্তফা দিতে হয়েছিল এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তা গ্রহণও করেছিলেন। কিন্তু পুনরায় তাঁকে একই গুরুত্বপূর্ণ পদে ফিরিয়ে আণায় নারী নেতৃত্বদের মধ্যে বিদ্রোহের সুর স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সিদ্ধান্তের কারণ ও দলের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব
বিতর্ক থাকা সত্ত্বেও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুনরায় এই দায়িত্বে ফিরিয়ে আনার পেছনে কিছু কৌশলগত কারণ রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক আইনি জটিলতা এবং নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা সংক্রান্ত বিষয়ে দলের পক্ষে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সক্রিয় ও আক্রমণাত্মক ভূমিকা দলীয় প্রধানকে সন্তুষ্ট করেছিল। মূলত এই কারণেই তাঁকে পুরস্কৃত করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এই সিদ্ধান্তের নেতিবাচক প্রভাব দলের সংহতির ওপর পড়তে শুরু করেছে। নির্বাচন বিপর্যয়ের পর যখন দলের ঐক্যবদ্ধ থাকা প্রয়োজন, ঠিক তখনই এই অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় শক্তিকে দুর্বল করে দিতে পারে এবং এর জেরে দল তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।
