ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি তুড়ি মেরে উড়িয়ে ইরানকে বাঁচাতে ময়দানে পুতিন!

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি তুড়ি মেরে উড়িয়ে ইরানকে বাঁচাতে ময়দানে পুতিন!

পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এক নতুন কূটনৈতিক চাল চাললেন। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলমান টানাপোড়েনের মূল কেন্দ্রবিন্দু ‘ইউরেনিয়াম’। এই জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলায় মস্কোর নতুন প্রস্তাব আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। রাশিয়ার এই পদক্ষেপে নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন নতুন করে অস্বস্তিতে পড়েছে।

ইউরেনিয়াম সংকট ও পুতিনের কূটনৈতিক কৌশল

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনার প্রধান বাধা হলো ইরানের কাছে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম। ওয়াশিংটনের দাবি ছিল, ইরানকে তাদের সমস্ত মজুত ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে হবে এবং পরমাণু অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা চিরতরে বন্ধ করতে হবে। তেহরান এই শর্ত মানতে নারাজ হওয়ায় অতীতের সব আলোচনা ব্যর্থ হয়। এই অচলাবস্থা কাটাতে ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ ঘোষণা করেছেন, শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান তাদের বাড়তি ইউরেনিয়াম রাশিয়ার কাছে জমা রাখতে পারে।

পরমাণু জ্বালানি তৈরির অভিনব পরিকল্পনা

রাশিয়া এই ইউরেনিয়াম ব্যবহারের একটি দ্বিমুখী পরিকল্পনা সামনে এনেছে। ক্রেমলিনের প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরান তাদের ইউরেনিয়াম রাশিয়ার কাছে হস্তান্তর করবে। রাশিয়া সেই ইউরেনিয়াম পরিশোধন করে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উপযোগী জ্বালানিতে রূপান্তর করবে। এরপর সেই জ্বালানি আবার ইরানকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। এর ফলে ইরানের বেসামরিক বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ হবে এবং পরমাণু অস্ত্র তৈরির মতো উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম তাদের কাছে থাকবে না। যদিও ইরান অতীতে এমন প্রস্তাবে রাজি হয়নি, তবে বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে তাদের অবস্থান পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছেন বিশ্লেষকরা।

হরমুজ প্রণালী ও আমেরিকার ওপর রাশিয়ার সমালোচনা

বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলার মতো বিভিন্ন ইস্যুতে রাশিয়া বর্তমানে আমেরিকার বিরুদ্ধে বেশ সরব। ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক হরমুজ প্রণালী অবরোধের পরিকল্পনার কড়া সমালোচনা করেছে মস্কো। দিমিত্রি পেসকভ সতর্ক করে বলেছেন, বিশ্বের তেলের বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ বন্ধ করা আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে। বিশ্ব অর্থনীতি যখন আগে থেকেই অস্থিতিশীল, তখন আমেরিকার এই পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে বলে মনে করে রাশিয়া।

ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্বেগের নেপথ্যে কূটনীতি

ইরানের ইউরেনিয়াম রাশিয়ার হেফাজতে যাওয়ার বিষয়টি ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিমালার সাথে সাংঘর্ষিক। এর পেছনে প্রধানত দুটি কারণ কাজ করছে:

প্রথমত, রাশিয়া ও ইরানের ক্রমবর্ধমান মৈত্রী মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার কৌশলগত প্রভাব কমিয়ে দিতে পারে।
দ্বিতীয়ত, রাশিয়ার হাতে ইউরেনিয়াম যাওয়ার পর তার প্রকৃত ব্যবহার এবং নিরাপত্তা নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের মধ্যে আস্থার অভাব ও গভীর সন্দেহ রয়েছে।

এক ঝলকে

বর্তমান পরিস্থিতি: পুতিনের এই প্রস্তাব মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনবে নাকি নতুন ভূ-রাজনৈতিক মেরুকরণ তৈরি করবে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।

রাশিয়ার প্রস্তাব: আলোচনার শর্ত হিসেবে ইরানের অতিরিক্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজেদের হেফাজতে নেবে রাশিয়া।

মূল লক্ষ্য: সংগৃহীত ইউরেনিয়ামকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানিতে রূপান্তর করে ইরানকে ফেরত দেওয়া।

ট্রাম্পের অবস্থান: রাশিয়া ও ইরানের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের তীব্র উদ্বেগ।

অর্থনৈতিক সতর্কতা: হরমুজ প্রণালী অবরোধ করলে বিশ্ব তেলের বাজারে ধস নামতে পারে বলে সতর্ক করেছে রাশিয়া।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *