ডায়মন্ড হারবার কোভিড মডেলে দুর্নীতির অভিযোগ! তদন্তের নির্দেশে অস্বস্তিতে অভিষেক – এবেলা

ডায়মন্ড হারবার কোভিড মডেলে দুর্নীতির অভিযোগ! তদন্তের নির্দেশে অস্বস্তিতে অভিষেক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

‘সেবাশ্রয়’ শিবিরের বিতর্ক কাটতে না কাটতেই তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডায়মন্ড হারবারের বহুল চর্চিত ‘কোভিড মডেল’ নিয়ে তৈরি হলো নতুন অস্বস্তি। ২০২২ সালের এই মেগা টেস্টিং ড্রাইভের স্বচ্ছতা ও নিয়মকানুন নিয়ে ওঠা একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিলকে তদন্ত করে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় মেডিক্যাল কমিশন (NMC)

বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাসের দায়ের করা একটি অভিযোগের ভিত্তিতেই দিল্লির জাতীয় সংস্থাটি এই কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

মূল অভিযোগগুলি কী কী?

পুলিশের কাছে দায়ের করা অভিযোগে বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ডায়মন্ড হারবারের তৎকালীন এই কোভিড কর্মসূচিতে প্রশাসনিক ও আর্থিক অনিয়মের দাবি তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য:

  • সরকারি সম্পদের অপব্যবহার: ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে আয়োজিত ‘মেগা কোভিড-১৯ টেস্টিং ড্রাইভ’-এ সরকারি অর্থ ও সম্পত্তি ব্যবহারের সময় নির্দিষ্ট নিয়ম মানা হয়নি।
  • অভিযুক্তের তালিকা: অভিযোগপত্রে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রধান অভিযুক্ত করার পাশাপাশি দক্ষিণ ২৪ পরগনার তৎকালীন জেলাশাসক এবং ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার তৎকালীন সুপারিন্টেন্ডেন্টসহ মোট ২৬ জন শীর্ষ কর্মকর্তার নাম রয়েছে।

তথ্যের অসঙ্গতি ও বড় প্রশ্নচিহ্ন

তৎকালীন সময়ে ডায়মন্ড হারবারের এই বিশাল টেস্ট কর্মসূচিকে মডেল হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। তবে তথ্যের হিসাব নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠছে:

এক নজরে সেই পরিসংখ্যান: মাত্র একদিনে ২৬০টি পরীক্ষাকেন্দ্র, ২৩টি ভ্রাম্যমাণ ইউনিট এবং ৩০টি কিয়স্কের মাধ্যমে মোট ৫৩,২০৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল।

  • রাজ্যের গড়ের সঙ্গে অসঙ্গতি: সেই সময়ে পুরো পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে দৈনিক গড় কোভিড পরীক্ষা হতো ৬৫,০০০ থেকে ৭০,০০০-এর কাছাকাছি। সেখানে একটি নির্দিষ্ট কেন্দ্রে একদিনে এত বিশাল সংখ্যক টেস্ট কীভাবে সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
  • ডায়াগনস্টিক কিট ক্রয়ে অনিয়ম: এক দিনে ব্যবহৃত ৫৩,২০৩টি ডায়াগনস্টিক কিট সরকারি বিধিবদ্ধ নিয়ম মেনে কেনা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।

জাতীয় মেডিক্যাল কমিশনের পদক্ষেপ

অভিযোগের তীব্রতা বিবেচনা করে জাতীয় মেডিক্যাল কমিশন রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলকে পুরো বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে দ্রুত রিপোর্ট জমা দিতে বলেছে। অতিমারির সময় অত্যন্ত প্রশংসিত এই ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ ঘিরে তদন্তের নির্দেশে নতুন করে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ চড়তে শুরু করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *