ডিজিটাল অ্যারেস্টের নতুন ফাঁদ! লালকেল্লা বিস্ফোরণে নাম জড়ানোর হুমকিতে ৩০ লাখ খোয়ালেন প্রবীণ রেলকর্মী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা / দিল্লি: ডিজিটাল অ্যারেস্টের ফাঁদে পড়ে জীবনের সমস্ত সঞ্চয় খোয়ালেন দিল্লির দ্বারকার এক অবসরপ্রাপ্ত রেলকর্মী। মানি লন্ডারিং বা মাদক পাচারের পর এবার দেশের সংবেদনশীল জঙ্গি হামলা বা বিস্ফোরণের ঘটনাকে হাতিয়ার করছে সাইবার প্রতারকরা। ২০২৫ সালের লালকেল্লার কাছে গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনায় নাম জড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ওই বৃদ্ধের কাছ থেকে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে হরিযাণার ফতেহাবাদ থেকে সুনীল সিংলা নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ।
কীভাবে ফাঁদ পেতেছিল প্রতারকরা? পুলিশ সূত্রের খবর, প্রতারকরা প্রথমে সাধারণ ফোন এবং পরে হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) ভিডিও কলের মাধ্যমে ওই প্রবীণ রেলকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করে। তারা নিজেদের এটিএস (ATS), এনআইএ (NIA) এবং আরবিআই (RBI)-এর ঊর্ধ্বতন আধিকারিক হিসেবে পরিচয় দেয়। রেলকর্মীকে জানানো হয়, লালকেল্লা বিস্ফোরণ তদন্তে তাঁর নাম উঠে এসেছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসে অর্থ জোগান ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ রয়েছে। বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতে তারা ভুয়ো গোপনীয়তা চুক্তি, লিগালাইজেশন বন্ড এবং আরবিআই-এর ভুয়ো নথিপত্রও ভিডিও কলে পাঠায়।
ভিডিও কলে চরম মানসিক অত্যাচার ও নজরবন্দি: গ্রেফতারির ভয় দেখিয়ে বৃদ্ধকে দীর্ঘ সময় একা একটি ঘরে ভিডিও কলের মাধ্যমে কার্যত নজরবন্দি করে রাখা হয়। প্রচণ্ড মানসিক চাপ সৃষ্টি করে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, ফিক্সড ডিপোজিটসহ সমস্ত সম্পত্তির তথ্য আদায় করে অপরাধীরা। এর পর একে একে মোট ৩০ লক্ষ টাকা ট্রান্সফার করিয়ে নেওয়া হয়।
পুলিশি তদন্ত ও গ্রেফতার: প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে প্রবীণ রেলকর্মী পুলিশে লিখিত অভিযোগ জানান। তদন্তে নেমে দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের এজিএস (AGS) টিম জানতে পারে, হাতিয়ে নেওয়া অর্থের মধ্যে ১৫ লক্ষ টাকা হরিযাণার ‘শ্রী বালাজি ট্র্যাক্টর’ নামক একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছিল। ওই অ্যাকাউন্টটি সুনীল সিংলা নামের ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে ছিল, যাকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তদন্তে আরও জানা গেছে, ধৃতের ওই অ্যাকাউন্টের সাথে আরও অন্তত সাতটি সাইবার প্রতারণার ঘটনার যোগসূত্র রয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি লখনউয়ের এক অবসরপ্রাপ্ত এফসিআই (FCI) কর্মীকে ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার ভয় দেখিয়ে একইভাবে ৪২.০৯ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল প্রতারকরা। তদন্তকারীদের মতে, এই ধরনের ভুয়ো কল বা ভিডিও কলে ভয় না পেয়ে অবিলম্বে স্থানীয় পুলিশ বা ১৬৯৩০ সাইবার হেল্পলাইনে যোগাযোগ করা উচিত।
