ডিজিটাল ব্যক্তিগত ডেটা সুরক্ষা আইন চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা, কেন্দ্রের জবাব তলব

ডিজিটাল ব্যক্তিগত ডেটা সুরক্ষা আইন চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা, কেন্দ্রের জবাব তলব

ডিজিটাল ব্যক্তিগত ডেটা সুরক্ষা (ডিপিডিপি) আইন ২০২৩-এর সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দায়ের করা নতুন একটি আবেদনের প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সরকারকে নোটিশ পাঠিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ সোমবার এই আদেশ দেন। ডিজিটাল বিশ্বে তথ্যের গোপনীয়তা এবং সাধারণ মানুষের অধিকারের ওপর এই আইনের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বর্তমানে বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনা চলছে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও আইনি পদক্ষেপ

আবেদনকারী পক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেছেন যে, এই আইনের বর্তমান ধারাগুলো পরোক্ষভাবে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা এবং সাধারণ নাগরিকের মত প্রকাশের অধিকারের ওপর প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে। আদালত এই মামলাটিকে আগামী ১৩ মে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ঝুলে থাকা মামলার সঙ্গে যুক্ত করে শুনানির দিন ধার্য করেছেন।

ডিজিটাল অ্যারেস্ট ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

শুনানি চলাকালীন বিচারপতি সূর্যকান্ত ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ বা ডিজিটাল প্রতারণা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, শিক্ষিত সমাজও যেভাবে এই ধরণের অপরাধের শিকার হচ্ছে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এর মোকাবিলায় মধ্যস্থতাকারী সংস্থাগুলোর জন্য একটি ‘কিল সুইচ’ বা জরুরি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আদালতে আলোচনা হয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল আর ভেঙ্কটরামানি জানান, এই ধরণের সাইবার অপরাধ রুখতে আন্তঃবিভাগীয় বৈঠক হয়েছে এবং প্রাপ্ত অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরটিআই আইনের ওপর প্রভাব ও পূর্বের শুনানি

গত ১৩ এপ্রিল আদালত আরটিআই (RTI) আইনের সংশোধন নিয়ে কেন্দ্রের কাছে কৈফিয়ত চেয়েছিল। অভিযোগ উঠেছে যে, ডিপিডিপি আইনের ধারা ৪৪(৩) ব্যবহারের মাধ্যমে তথ্যের অধিকার আইনের ধারা ৮(১)(জে) সংশোধন করা হয়েছে। এর ফলে ব্যক্তিগত তথ্যের অজুহাতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশে বাধা সৃষ্টি হতে পারে। সামাজিক কর্মী অরুণা রায় এবং নিখিল দে-সহ একাধিক ব্যক্তি এই আইনি লড়াইয়ের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। রাজস্থান সরকারকেও এই প্রক্রিয়ায় পক্ষভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

সম্ভাব্য প্রভাব ও বিশ্লেষণ

এই আইনি লড়াইয়ের ফলাফল ভারতের ডিজিটাল কাঠামোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে যেমন ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার প্রয়োজন রয়েছে, অন্যদিকে এই আইনের আড়ালে তথ্যের অধিকার সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে সরকারি কাজে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং সাংবাদিকদের কাজ করার ক্ষেত্রে এই আইনের কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

একঝলকে

  • ডিপিডিপি আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে কেন্দ্রীয় সরকারকে সুপ্রিম কোর্টের নোটিশ।
  • মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ মে ২০২৬।
  • ডিজিটাল অ্যারেস্টের শিকার হওয়া নিয়ে আদালতের পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ।
  • তথ্যের অধিকার (RTI) আইনের ওপর এই আইনের প্রভাব নিয়ে বিচারবিভাগীয় তদন্ত।
  • সাংবাদিকতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতায় সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ নিয়ে আইনি প্রশ্ন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *