ডিজে বাজানোর হুঁশিয়ারি বনাম অমিত শাহের হুমকি আর অভিষেকের হয়ে ব্যাট ধরলেন মমতা

নির্বাচনী প্রচারের উত্তপ্ত মুহূর্তে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা সেই ‘ডিজে বাজানো’র মন্তব্য এখন ব্যুমেরাং হয়ে ফিরে আসছে তৃণমূল শিবিরের দিকে। ৪ মে ফলাফল প্রকাশের পর বাংলায় বিজেপির বিপুল জয় নিশ্চিত হতেই বিরোধীরা তৃণমূলকে বিঁধতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে বুধবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়ে অভিষেকের হয়ে পাল্টা আক্রমণাত্মক মেজাজে ধরা দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
অভিষেকের মন্তব্য ও সাংবাদিকের প্রশ্ন
ভোটের আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় হুঙ্কার দিয়ে বলেছিলেন, “আগামী ৪ তারিখ ডিজে বাজবে।” তাঁর ইঙ্গিত ছিল তৃণমূলের জয়ের দিকে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গিয়েছে উল্টো ছবি। বিজেপি ২০০-র বেশি আসনে জয়ী হয়ে জয়ের উৎসবে মেতেছে। এদিন এই প্রসঙ্গেই সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরক্তি প্রকাশ করেন এবং সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের প্রসঙ্গ টেনে আনেন।
অমিত শাহের পুরনো মন্তব্যকে হাতিয়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টি জবাবে বলেন, “শুনুন, রাজনীতিতে অমিত শাহ বলেছিলেন সবাইকে দড়িতে করে ঝুলিয়ে পেটানো হবে। আগে তাঁকে জিজ্ঞাসা করুন, তারপর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তর দেবেন।” অর্থাৎ, নিজের সেনাপতির করা আলঙ্কারিক মন্তব্যের সাফাই দিতে গিয়ে মমতার কৌশল ছিল আক্রমণকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়া। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, রাজনৈতিক বাগযুদ্ধে বিজেপি নেতাদের করা আগের মন্তব্যগুলোর নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অভিষেকের বক্তব্য নিয়ে কোনো কৈফিয়ত দিতে তিনি রাজি নন।
রাজনৈতিক চাপানউতোর
বিশ্লেষকদের মতে, ফলাফল প্রকাশের পর তৃণমূল যখন ব্যাকফুটে, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ধরণের মন্তব্য দলের কর্মীদের মনোবল ধরে রাখার একটি প্রচেষ্টা। অন্যদিকে বিজেপি এই ঘটনাকে তৃণমূলের ‘পরাজয়ের গ্লানি’ হিসেবেই দেখছে। রাজনীতির আঙিনায় বাগযুদ্ধ নতুন কিছু নয়, কিন্তু ৪ তারিখ ডিজে সত্যিই বাজলেও তার সুর যে তৃণমূলের পক্ষে যায়নি, তা এখন ধ্রুবসত্য। এখন দেখার বিষয়, এই পাল্টা আক্রমণের পর বিজেপি নেতৃত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোলা ‘ঝুলিয়ে পেটানো’র অভিযোগের কী উত্তর দেয়।
প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।
