ডিমের আঘাতে নাজেহাল হেভিওয়েট নেতারা, কেন রাজনৈতিক প্রতিবাদের মোক্ষম অস্ত্র হয়ে উঠল পচা ডিম! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যে রাজনীতির অস্থির আবহে এখন শিরোনামে ডিম। তৃণমূলের শীর্ষ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে মদন মিত্র কিংবা সব্যসাচী দত্ত—শাসক দলের হেভিওয়েট নেতারা নিয়মিত বিক্ষোভকারীদের ডিমের হামলার মুখে পড়ছেন। তবে এই ঘটনা নতুন নয়। পাহাড় থেকে জঙ্গলমহল কিংবা ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিশ্বমঞ্চ—দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিবাদের অভিনব এবং প্রতীকী মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে পচা ডিম।
মধ্যযুগীয় মঞ্চ থেকে আধুনিক রাজনীতির ময়দান
পচা ডিম বা ফল ছুড়ে প্রতিবাদ করার রীতি বেশ প্রাচীন। ১৬শ ও ১৭শ শতকে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের নাট্যমঞ্চে দর্শক কোনো পারফরম্যান্সে অসন্তুষ্ট হলে শিল্পীদের দিকে পচা টমেটো বা ডিম ছুড়ত। সেই সংস্কৃতিই কালক্রমে রাজনৈতিক প্রতিবাদের মোক্ষম হাতিয়ার হয়ে ওঠে। ঊনবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে ইউরোপ ও আমেরিকায় নির্বাচনী প্রচারে অপছন্দের প্রার্থীকে বিব্রত করতে এই কৌশল ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতে থাকে। বিংশ শতাব্দীতে সংবাদমাধ্যমের প্রসারের ফলে তা আরও বেশি প্রচার পেতে শুরু করে। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী জন মেজর থেকে শুরু করে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম ফ্রাশার কিংবা ভারতের লালকৃষ্ণ আদবানি ও পি চিদাম্বরম—বিশ্বের তাবড় তাবড় নেতারা বিভিন্ন সময়ে এই জনরোষের শিকার হয়েছেন।
সহজলভ্য অস্ত্র ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ
কেন প্রতিবাদের জন্য ডিমই প্রথম পছন্দ? এর পেছনে কাজ করে কয়েকটি নির্দিষ্ট কারণ। প্রথমত, ডিম অত্যন্ত সুলভ এবং সব জায়গায় সহজেই পাওয়া যায়। দ্বিতীয়ত, ডিম নিক্ষেপ সাধারণত প্রাণঘাতী নয়, ফলে প্রতিবাদকারী খুব সহজেই নিজের ক্ষোভ উগরে দিতে পারেন, অথচ গুরুতর শারীরিক আঘাতের ঝুঁকি থাকে কম। সবশেষে, পচা ডিমের দুর্গন্ধ সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক অপমানের একটি শক্তিশালী প্রতীক। এর মাধ্যমে জনমানসে বার্তা দেওয়া হয় যে, সংশ্লিষ্ট নেতার নীতি বা অস্তিত্ব সাধারণ মানুষের কাছে আর গ্রহণযোগ্য নয়।
বর্তমানের পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্যে ডিম নিক্ষেপের ঘটনা এটাই প্রমাণ করে যে, শতাব্দী প্রাচীন এই প্রতিবাদের ভাষা আজও প্রাসঙ্গিক। কোনো নেতার দিকে ডিম ছোড়া মানে শুধু তাকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করা নয়, বরং সংবাদ শিরোনামে উঠে এসে জনসমক্ষে বার্তা দেওয়া। মধ্যযুগীয় ইউরোপের সেই প্রতিবাদের ধারা আজও আধুনিক রাজনীতির মঞ্চে জনরোষ প্রকাশের অন্যতম প্রধান উপায় হিসেবে টিকে রয়েছে।
