তারাতলায় মৃত্যুফাঁদ! তৃণমূলকে কাঠগড়ায় তুলে বৃহত্তর কলকাতা জুড়ে নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদামের ছাদ ভেঙে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ৯ জনের মৃত্যু এবং ২০ জনের আহত হওয়ার ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এই বিপর্যয়ের দায় সরাসরি পূর্বতন তৃণমূল সরকারের দুর্নীতি ও গাফিলতির ওপর চাপিয়েছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভায় ত্রুটিপূর্ণ নকশায় প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের সই প্রদর্শন করে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বেআইনি এই কাজের সঙ্গে যুক্ত কাউকেই রেয়াত করা হবে না। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, টাকার বিনিময়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে নকশা অনুমোদন করার কারণেই এই প্রাণঘাতী বিপর্যয় ঘটেছে।
দুর্নীতির অভিযোগ ও নির্মাণকাজে স্থগিতাদেশ
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনা করে এবং শহরের বুকে এহেন বিপদের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। কলকাতা পুরসভা, রাজারহাট, মহেশতলা, সোনারপুর, বজবজ সহ পার্শ্ববর্তী একাধিক এলাকায় আগামী চার সপ্তাহের জন্য সমস্ত রকম নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিগত সরকারের আমলে অনুমোদিত সমস্ত বাণিজ্যিক ও সাধারণ বিল্ডিং প্ল্যান পুনরায় অডিট করবে অতিরিক্ত মুখ্যসচিব রাজেশ পাণ্ডের নেতৃত্বে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন আধিকারিকদের যোগসাজশে টাকার বিনিময়ে এভাবেই একের পর এক ত্রুটিপূর্ণ নকশা অনুমোদন করা হয়েছিল এবং সেই দুর্নীতির টাকাতেই ক্যামাক স্ট্রিটের নির্দেশ অনুযায়ী তৃণমূল ভবন তৈরি হচ্ছে।
উদ্ধারকাজে সেনার তৎপরতা এবং ক্ষতিপূরণ
বিপর্যস্ত গুদামে ভারী লোহার বিমের নিচে চাপা পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে প্রথমদিকে বেশ বেগ পেতে হয়। রাজ্য সরকারের নিজস্ব বিপর্যয় মোকাবিলা ব্যবস্থার পরিকাঠামোগত দুর্বলতা এবং ভারী লোহা কাটার সরঞ্জাম না থাকার অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সঠিক সময়ে ভারতীয় সেনার বিহার রেজিমেন্টের ২১৫ জন জওয়ান আধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে আসাতেই ২০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে রাজ্যের তরফ থেকে ১০ লক্ষ ও কেন্দ্রের তরফ থেকে ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের রাজ্য ১ লক্ষ এবং কেন্দ্র ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য প্রদান করবে।
