তিলজলার বেআইনি কারখানার অগ্নিকাণ্ডে বাড়ল মৃতের সংখ্যা, হাসপাতালে প্রাণ হারালেন আরও এক যুবক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
তিলজলার বেআইনি কারখানায় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল যেন থামছেই না। গত ১২ মে-র সেই অভিশপ্ত ঘটনার পর হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে হার মানলেন আরও এক জন। মৃতের নাম মহম্মদ ইব্রা। তিনি তিলজলার মসজিদ বাড়ি লেনেরই বাসিন্দা ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার পর তাঁর মৃত্যু হওয়ায় এই ঘটনায় মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল তিন। এই নতুন মৃত্যু তিলজলার সাধারণ মানুষের উদ্বেগ ও ঘরের মানুষকে হারানোর আতঙ্ককে আরও একবার বাড়িয়ে দিল।
দাহ্য পদার্থের দাপট ও প্রশাসনের তৎপরতা
তিলজলার একটি ঘন জনবসতিপূর্ণ এলাকার বহুতলের একতলায় থাকা চামড়ার কারখানায় আচমকাই আগুন লেগেছিল। ঘিঞ্জি এলাকা হওয়ায় মুহূর্তের মধ্যে সেই আগুন ভয়ংকর রূপ ধারণ করে এবং কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারপাশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জনবসতির মাঝেই ওই কারখানার ভেতরে বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক ও দাহ্য পদার্থ মজুত করে রাখা ছিল। আর সেই কারণেই আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দমকলের একাধিক ইঞ্জিন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছিল।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর থেকেই শহরের বুকে গজিয়ে ওঠা বেআইনি এবং বিপজ্জনক কারখানাগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। দুর্ঘটনার পর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে নিজে গিয়েছিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। রাজ্য প্রশাসনের তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত হতাহতদের জন্য কোনও আর্থিক ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করা না হলেও, ওই এলাকার বেআইনি নির্মাণ ও কারখানা ভাঙার কাজ তড়িঘড়ি শুরু করে দিয়েছিল প্রশাসন। তবে পুরসভার সেই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হতেই তাতে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করে কলকাতা হাইকোর্ট।
ক্ষোভ, রাজনৈতিক চাপানউতর ও সম্ভাব্য প্রভাব
তিলজলার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক তরজা ইতিমধ্যেই তুঙ্গে উঠেছে। জনবসতি এলাকায় কার অনুমতিতে বছরের পর বছর ধরে এমন বিপজ্জনক চামড়ার কারখানা চলছিল, তা নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয়রা। এই ঘটনার জেরে আগামী দিনে শহরের অন্যান্য ঘিঞ্জি এলাকায় চলা বেআইনি কলকারখানার বিরুদ্ধে নজরদারি ও আইনি কড়াকড়ি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি, আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া থমকে যাওয়ায় পুনর্বাসন ও বেআইনি নির্মাণ ভাঙার বিষয়টি একটি দীর্ঘমেয়াদি আইনি জটলায় রূপ নিতে পারে। বর্তমানে মৃত যুবকের দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য নীলরতন সরকার (NRS) মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
