তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমারের বাড়িতে আয়কর হানা, উদ্ধার কোটি টাকার হিরে ও সোনা!

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আবহে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী দেবাশিস কুমারের বাড়িতে আয়কর দফতরের ম্যারাথন তল্লাশিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। রাসবিহারী কেন্দ্রের এই প্রার্থীর দক্ষিণ কলকাতার বাসভবন ও নির্বাচনী কার্যালয়ে দীর্ঘ ১৫ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে প্রায় ১ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা মূল্যের হিরে ও সোনার গয়না এবং সোনার বাট উদ্ধার করেছেন আধিকারিকরা। আয়কর দফতর সূত্রে খবর, প্রার্থীর নির্বাচনী হলফনামায় ঘোষিত সম্পত্তির পরিমাণের সঙ্গে এই উদ্ধার হওয়া সম্পদের বিশাল অসঙ্গতি পাওয়া গিয়েছে।
সম্পত্তি ও আয়ে বড়সড় গরমিল
তদন্তকারী আধিকারিকদের মতে, দেবাশিস কুমার তাঁর নির্বাচনী হলফনামায় হিরের গয়না এবং সোনার বাটের মতো বহুমূল্য সামগ্রীর কোনো উল্লেখই করেননি। এছাড়া তাঁর একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে নগদ ৬ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে, যার উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শুধু দেবাশিস কুমারই নন, তাঁর স্ত্রীর আয়কর রিটার্নে প্রদর্শিত আয়ের সঙ্গেও হলফনামায় দেওয়া তথ্যের অমিল খুঁজে পেয়েছেন তদন্তকারীরা। সম্পদের এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধির বিষয়ে বিধায়কের স্ত্রীর কাছেও লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
তদন্তের পরিধি ও পরবর্তী পদক্ষেপ
আয়কর দফতরের এই অভিযানে দেবাশিস কুমারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মিরাজ ডি শাহের নামও জড়িয়েছে। তাঁর সম্পত্তি থেকেও বিদেশি হলমার্কযুক্ত প্রায় ৮ কেজি সোনার বাট পাওয়া গিয়েছে, যা নিয়ে তদন্তে নেমেছে ডিরেক্টরেট অব রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স (DRI)। শুল্ক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে নোডাল অফিসারকে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে জমা দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার ফলে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার মুখে দেবাশিস কুমার আইনি ও রাজনৈতিকভাবে বড় চাপের মুখে পড়লেন। উদ্ধার হওয়া সম্পদের মালিকানা ও অর্থের উৎস সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিতে না পারলে তাঁর প্রার্থিতা ও রাজনৈতিক ক্যারিয়ার সংকটে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে বাজেয়াপ্ত হওয়া সামগ্রীর নথি যাচাইয়ের কাজ অব্যাহত রেখেছেন আয়কর কর্তারা।
এক ঝলকে
- তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমারের বাড়িতে আয়কর তল্লাশিতে ১.৭৫ কোটি টাকার হিরে ও সোনা উদ্ধার।
- নির্বাচনী হলফনামায় দেওয়া তথ্যের সঙ্গে উদ্ধার হওয়া সম্পদের বিশাল অসঙ্গতি মিলেছে।
- বিধায়কের স্ত্রীর আয়ের উৎস ও সম্পত্তির অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে আয়কর দফতর।
- তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে নির্বাচন কমিশনে, যুক্ত হয়েছে ডিআরআই-ও।
