তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহের আগুন, যুব নেতাদের তোপের মুখে নীরব সায়নী! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে দেওয়া ১৯ জন ‘বিদ্রোহী’ তৃণমূল সাংসদের চিঠিতে যুব তৃণমূল সভানেত্রী সায়নী ঘোষের স্বাক্ষর ঘিরে দলের অন্দরে চরম আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এনডিএ-কে সমর্থনের ওই চিঠির প্রতিলিপি প্রকাশ্যে আসতেই যুব তৃণমূলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সায়নীকে নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল ক্ষোভ ও বিতর্ক।
হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পদত্যাগের দাবি
গত কয়েকদিন ধরেই দলের অন্দরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ‘ঘনিষ্ঠ’ বলে পরিচিত যাদবপুরের সাংসদ সায়নীকে নিয়ে প্রশ্ন তুলছিলেন যুব নেতারা। বিদ্রোহী সাংসদদের চিঠি সামনে আসার পর সেই ক্ষোভ আছড়ে পড়ে দলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে। চিঠির প্রতিলিপি আপলোড করে সায়নীর উদ্দেশে দলের নেতারাই সরাসরি প্রশ্ন করেন যে ওই স্বাক্ষর তাঁর কি না। স্বাক্ষর তাঁর হলে অবিলম্বে তাঁকে পদত্যাগের দাবি জানানো হয়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, গ্রুপের অ্যাডমিন সায়নী নিজে এবং ক্যামাক স্ট্রিটের কয়েকজন প্রতিনিধি মেসেজগুলো দেখলেও কেউ কোনো উত্তর দেননি। এমনকি তাঁর ‘নিরুদ্দেশ’ থাকার অভিযোগ তুলে তাঁকে খুঁজে দিলে পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণাও করেন এক নেতা।
দলের ভাঙন ও সম্ভাব্য প্রভাব
তৃণমূলে সাম্প্রতিক রদবদলে সমস্ত কমিটি ভেঙে দেওয়া হলেও সায়নী ঘোষকে যুব সভাপতির পদে বহাল রাখা হয়েছিল। কিন্তু কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে যে সাংসদরা এনডিএ-কে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেই তালিকায় সায়নীর নাম থাকা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য একটি বড় ধাক্কা। কারণ ইতিমধ্যেই মহিলা তৃণমূলের সভানেত্রীর পদ থেকে আরেক ‘বিদ্রোহী’ মালা রায়কে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সায়নীর বিরুদ্ধে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা না নেওয়া এবং যুব নেতাদের এই প্রকাশ্য ক্ষোভ প্রমাণ করছে যে দলের অন্দরে ফাটল ক্রমশ চওড়া হচ্ছে। এর ফলে তৃণমূলের ভেতরে চরম সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা তৈরির পাশাপাশি শীর্ষ নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা নিয়ে আগামী দিনে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিতে পারে।
